দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: আষাঢ় মাসেই বৈঠক করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, এবছর পৌষমেলা হবে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী বছর বছর বসন্ত উৎসবও হবে না। তবে ওই মাসে ঘরোয়া ভাবে বসন্ত উৎসব পালন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার শান্তিনিকেতনের রথীন্দ্র অতিথি গৃহে পৌষমেলা কর্মসমিতির বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দুলালচন্দ্র ঘোষ, উপাচার্যের প্রতিনিধি মঞ্জুমোহন মুখোপাধ্যায়-সহ আনান্যরা। সেখানে মূলত পৌষমেলা বিশ্বভারতী পরিচালনা করবে কি না তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
২০১৯ সালের পৌষমেলার সময় ব্যাপক দূষণ হলেও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কার্যকারী কোনও ভূমিকা নিচ্ছে না গ্রিন ট্রাইবুনালে মামলা করেছিলেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। একই ভাবে ২০১৯ সালে নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যবসায়ীরা মেলার মাঠ থেকে না উঠলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা হয়। সেইসব দোকান তুলতে গিয়ে বিশ্বভারতীর আধিকারকদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার বলেছেন, যে মেলা নিয়ে বিশ্বভারতীর আধিকারিকদের শ্লীলতাহানির অভিযোগের মুখে পড়তে হয়, তার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।
এ বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছিল দোল। তখনও সে ভাবে সংক্রমণ রোধী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
তবে গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পৌষমেলা না হলেও পৌষ উৎসব হবে। ৭ থেকে ৯ পৌষ উপাসনা, পরলোকগত আশ্রমিকদের স্মরণ, মহর্ষি স্মারক বক্তৃতা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, সমাবর্তন এবং খ্রিষ্টোৎসবের মতো রুটিন অনুষ্ঠানগুলি পালিত হবে।