দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা নতুন দিন, আর একটা করে নতুন জায়গায় কাটমানি বিক্ষোভ। এটাই যেন গত কয়েক দিনের স্বাভাবিক ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলায়। রবিবারের পর, কাটমানি ফেরতের আন্দোলনে সোমবারও সংবাদে উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট।
কাটমানি ফেরতের দাবিতে মঙ্গলকোটের চানক পঞ্চায়েতের প্রধান তথা স্থানীয় নেত্রী রীনা চক্রবর্তীর বাড়িতে ভাঙচুর চালালো স্থানীয় জনতা। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাড়ির জানলার কাঁচ। রীনাদেবী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সকালে ন’টা-সাড়ে ন’টা নাগাদ হঠাৎ একদল লোক এসে বাড়ির সামনে অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করে। এরপর আমার স্বামী দরজা খুলে বেরোতেই শুরু হয় ইটবৃষ্টি।” তাঁর আরও অভিযোগ, এই গোটা ঘটনার পিছনে রয়েছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা পিন্টু সামন্তর নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। যদিও বিজপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গেরুয়াশিবিরের দাবি, স্থানীয় জনতার ক্ষোভকে ভয় পেয়ে তৃণমূল এখন বিজেপি-র ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, রীনা চক্রবর্তী এবং তাঁর স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তী সমস্ত প্রকল্পে কাটমানি নিয়েছেন।
গতকালও মঙ্গলকোট শিরোনামে উঠে এসেছিল। কাটমানি ফেরতের দাবিতে এই চানক অঞ্চলেরই দুই তৃণমূল নেতাকে ডেকে সালিশি সভা বসিয়েছিল বিজেপি। সেখানে এসে মুচলেকা দিয়ে স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা অপূর্ব ঘোষ এবং কালীময় গঙ্গোপাধ্যায় বলে যান, তিন মাসের মধ্যে সব টাকা ফেরত দেবেন। তবে গ্রামবাসীদের সামনে তাঁরা এ-ও বলেন, তাঁরা টাকা তুললেও সেটা নিয়েছেন অঞ্চল সভাপতি রমজান শেখ। তিনি যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
কাটমানি ক্ষোভ ভাইরাল হচ্ছে দেখে রবিবার বিবৃতি দিতে হয় তৃণমূলকে। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে দোষ চাপান। সেই সঙ্গে বলেন, তৃণমূলের ৯৯.৯৯ শতাংশ কর্মী সৎ ও পরিশ্রমী। তাঁরা মানুষের জন্য কাজ করেন।
কিন্তু সেই বিবৃতেও কাজ হল না। সোমবার সকাল হতেই ফের কাটমানি ক্ষোভ আছড়ে পড়ল তৃণমূল নেতার নেতার দোড়গোড়ায়।