দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার লিলুয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে পড়ে রইল এক মহিলা করোনা রোগীর মৃতদেহ। অভিযোগ, স্বাস্থ্য দফতরে খবর দেওয়া হলেও সৎকার করার জন্য দীর্ঘক্ষণ কেউ আসেনি। পরে অবশ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে লোক এসে দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যান।
হাওড়া পুর নিগমের ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্রসেন স্ট্রিটের বাসিন্দা ছিলেন ওই মহিলা। বয়স ৫৪ বছর। দিন তিনেক আগে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি সোয়াব টেস্ট করান। রিপোর্ট আসার আগে আজ সোমবার ভোরে তিনি গুরুতর অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারপরে রিপোর্ট এলে জানা যায় তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
দেহ ফিরিয়ে আনেন বাড়ির লোকজন। বাড়ির সামনে রাস্তার উপরে খোলা জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ রাখা থাকে দেহটি। পরে তাঁর দেহ কাঠ দিয়ে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ির লোকের অভিযোগ, তাঁরা স্বাস্থ্য দফতরে খবর দিলেও কেউ দেহ নিতে আসেননি। করোনায় মৃতের দেহ এভাবে পড়ে থাকার ফলে এলাকার লোকজনও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। এলাকার সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর কৈলাস মিত্র বলেন, “আমি সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁর মৃত্যুর খবর পাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানা ও স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই এলাকাও স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
ওই মহিলার তাঁর স্বামী ও ছেলের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদেরও সোয়াব টেস্ট করা হবে। তাঁর ছেলের একটি দোকান রয়েছে। এই ক’দিন সেই দোকান খোলা ছিল। তাই ওই মহিলার করোনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকার অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ওই এলাকাটিকে নতুন করে কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে।
হাওড়া পুর এলাকার ৬২ নম্বর ওয়ার্ডেই থাকেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রীর করোনা ধরা পড়েছেন। তিনি বাড়িতেই আছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন লক্ষ্মীরতন নিজে, তাঁর বাবা ও দুই ছেলে। এই অবস্থায় ওই ওয়ার্ডে আরও এক জনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেল।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, হাওড়া জেলায় এ পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার নশো বাহান্ন জন। কোভিডে মৃত্যু হয়েছে একশো জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুহাজার ছশো উনআশি জন। করোনা অ্যাক্টিভ রয়েছেন এক হাজার একশো ছেচল্লিশ জন।