দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্যোজাতর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিল পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরের পিঠাইকেয়ারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সূত্রের খবর, ২৯ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন সালানপুর কল্ল্যা পঞ্চায়েতের ঢেঁড়সপুর গ্রামের গঙ্গা ঘোষ। অভিযোগ, গভীর রাতে প্রসব যন্ত্রণা তীব্র হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কৌশিক রানাকে পাওয়া যায়নি। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীরাও প্রসূতির আত্মীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলাইন দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে যান তবে নার্সরা সেই পরামর্শ কানে তোলেননি বলে অভিযোগ। ভোররাতে ওই প্রসূতি প্রসব করলে সদ্যোজাতর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, পরে সে মারা যায়। অভিযোগ, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির ফলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে রোগীর পরিবারের লোকেরা এসে দোষী চিকিৎসক ও নার্সের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে সালানপুর থানার ইনচার্জ পবিত্রকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, রূপনারায়াণপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ সিকান্দার আলম, কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির অমরনাথ দাস ও চিত্তরঞ্জন থানার ইনচার্জ অতীন্দ্রনাথ দত্ত বাহিনী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান। পুলিশের সঙ্গেও মৃত শিশুর পরিবারের বচসা বেধে যায়। অবশেষে সালানপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ভোলা সিং এসে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মৃত শিশুর পরিবারকে বোঝান। পরিবার পরিবারের তরফে এনিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়।
পরে গঙ্গা ঘোষকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের থেকে তদন্তের আশ্বাস মিললে বিক্ষোভ থামে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক অমরেশ মাজি বলেন, “শিশুটির গলায় নাড়ি ফাঁসা ছিল, সাধারণত এই সব শিশুদের সিজার করা হয় কিন্তু আল্ট্রা সোনোগ্রাফি রিপোর্ট এ কিছু লেখা না থাকায় শিশুটি মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা আরও কয়েকটি অভিযোগ তুলেছেন। আমরা সব অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে শাস্তি দেবে।”