শেষ আপডেট: 10 March 2020 11:06
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা[/caption]
মৃতার পরিবার জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁরা খবর পান যে তাপসীকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। খবর পেয়েই তাঁরা হাজির হয়ে যান হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে তাপসীর। তাঁর শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাই পরিবারের অনুমান, তাঁকে প্রথমে মারধর করে পরে ঝুলিয়ে দিয়ে খুন করা হয়েছে।
কী কারণে বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হলে মৃতার দাদা দিবাকর বিশ্বাস বলেন, রুবেলের সঙ্গে তাঁর এক বৌদির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, এই নিয়েই মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হত বলে তিনি শুনেছেন। তাপসী এনিয়ে কোনও দিনও তাঁকে কিছু বলেননি। সেই অশান্তির জেরেই তাপসীকে খুন হয়ে থাকতে হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। বিয়ের মাত্র তিন মাস দশ দিনের মধ্যেই এই ঘটনা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বরপক্ষের চাহিদা মতোই পণ দেওয়া হয়েছিল বিয়েতে।
[caption id="attachment_194490" align="aligncenter" width="1088"]
হাসপাতালে তাপসীর আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা[/caption]
তাপসীর আত্মীয়া মনীষা বসু বলেন, “বিয়ের পরে আমরা জানতে পারি যে রুবেলের সঙ্গে ওর বৌদির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক দিন আগে তাপসী বলেছিল যে ‘আমি সংসার করতে চাই, আমাকে ওঝার কাছে নিয়ে চল।’ এখানে এসে শুনছি যে রুবেল মদ খেয়ে ফিরলে তাপসী তার প্রতিবাদ করেছিল, ও শোনেনি বলে গলায় দড়ি দিয়েছে কিন্তু আমাদের তা বিশ্বাস হচ্ছে না।” তাঁদের ধারণা খুন করা হয়েছে তাপসীকে।
প্রতিবেশী কবিতা নন্দী বলেন, “ওর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, চুড়ি বেঁকে গিয়েছিল, শাড়ি ছেঁড়া ছিল। আমরা চাই যে আমাদের মেয়েকে মেরেছে তার ফাঁসি হোক।”
পরিবারের তরফে অশোকনগর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অশোকনগর থানার পুলিশ রুবেল দাসকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে বারাসত আদালতে তোলে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার বারাসত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।