পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যুহার ১০.৫ শতাংশ, জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটাই বেশি: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেইসঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু এই মৃত্যুর হার বিশ্বের সব দেশের থেকে ভারতে সবথেকে কম বলেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরি
শেষ আপডেট: 5 May 2020 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেইসঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু এই মৃত্যুর হার বিশ্বের সব দেশের থেকে ভারতে সবথেকে কম বলেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান দেখলে অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি যে যুক্তিযুক্ত তা প্রমাণিত। কিন্তু জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটাই বেশি পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যুহার।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া মঙ্গলবার সকাল ৮টার বুলেটিন অনুযায়ী দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৫৬৮। অর্থাৎ জাতীয় মৃত্যুহার বা মর্টালিটি রেট ৩.৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে এই বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ১২৫৯ ও মৃতের সংখ্যা ১৩৩। অর্থাৎ এই রাজ্যে করোনায় মৃত্যুর হার ১০.৫৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটাই বেশি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী দেশের যে সব রাজ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি, সেখানকার মৃত্যু হার পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তা পশ্চিমবঙ্গের থেকে অনেকটা কম। যেমন মহারাষ্ট্রে মৃত্যুহার ৪.০১ শতাংশ, গুজরাতে মৃত্যুহার ৫.৫০ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশে মৃত্যুহার ৫.৭৭ শতাংশ ও দিল্লিতে মৃত্যুহার মাত্র ১.৩১ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান দেখলে এটা স্পষ্ট, জাতীয় গড়ের থেকে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের মৃত্যুহার বেশি হলেও তা পশ্চিমবঙ্গের থেকে অনেকটাই কম। আর দিল্লিতে তো গত কয়েক সপ্তাহে মৃত্যুহার অনেক কমেছে। বর্তমানে দেশে হাজারের বেশি আক্রান্ত রাজ্যগুলির মধ্যে সবথেকে কম মৃত্যহার রাজধানীতে।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যভবনের তরফে সোমবার সন্ধ্যায় যে বিস্তারিত বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করা ছিল করোনা আক্রান্ত হয়ে এই রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১। আরও ৭২ জন এমন রোগীর মৃত্যু হয়েছে যাঁদের শরীরে করোনাভাইরাস মিলেছে, কিন্তু তার সঙ্গে কো-মর্বিডিটির সমস্যাও ছিল তাঁদের। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে কো-মর্বিডিটি থাকা রোগীদেরও করোনায় মৃত্যর সংখ্যাতেই হিসেব করা হচ্ছে। তাই এই রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৩।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক কর্তা জানিয়েছেন, কো-মর্বিডিটির সমস্যা থাকলেও যেসব মৃত রোগীর শরীরে কোভিড ১৯ ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের করোনায় মৃত হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। সব রাজ্য সেই হিসেবই পাঠাচ্ছে। যদি গোটা দেশের মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে করোনায় মৃতদের ৭৮ শতাংশের শরীরে কো-মর্বিডিটির সমস্যা ছিল। তাই যদি কো-মর্বিডিটিকে আলাদা করতে হয়, তাহলে জাতীয় স্তরে তো বটেই, অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যহার আরও কমে যাবে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে সবটাই করোনায় মৃত্যুর হিসেবে রাখা হচ্ছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও সেটাই করা হয়েছে।