দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারিবারিক বিবাদের জেরে নদিয়ার হরিণঘাটা থানা এলাকার বিজরা ঘোষপাড়া গ্রামে এক দশ বছরের ছেলেকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল কাকার বিরুদ্ধে। মৃতের ছেলেটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে হরিণঘাটা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত সমীর ঘোষকে গ্রেফতার করেছে।
মৃতের নাম সৌরথ ঘোষ (১০)। তার বাবা-কাকারা সাত ভাই। তাঁরা সকলে মিলে সপরিবারে বসবাস করেন একই বাড়িতে। ওই সাত ভাইয়ের মোট ষোলো বিঘা জমি রয়েছে। সেই জমিতেই রয়েছে একটি পারিবারিক স্যালো মেশিন। এই স্যালো মেশিন থেকে সাত ভাই প্রয়োজন মতো সেচের জল নেন। তা থেকে আশপাশে থাকা অন্যান্য জমিতেও সেচের জল দেওয়া হয়। তা থেকে বছরে বেশ কয়েক হাজার টাকা লাভ হয় তাঁদের।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে অন্য ভাইরা বিশ্বাস করে তাঁদের ন'ভাই সমীরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্যালো মেশিন দেখাশোনা করার। অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে লাভের টাকা কোনও ভাইকে না দিয়ে একা সমীর ঘোষ তিনি নিজেই তা নিয়ে নিচ্ছিলেন। গত কয়েক দিন আগে সমীরের কাছে জমে থাকা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করবার জন্য অন্য ভাইয়েরা চাপ দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই চাপের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে সেজো ভাইয়ের ছেলের ওপর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে মাছ ধরতে যাওয়ার নাম করে ভাইপো সৌরথকে ডেকে নিয়ে যান সমীর। তার পর থেকেই সৌরথকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সৌরথের পরিবারের সকলে মিলে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে হরিণঘাটা থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করে। বুধবার দুপুরে পুকুরে মাছ ধরতে এসে এক জন লোক একটি মৃতদেহ দেখতে পান। সৌরথের পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করেন। হরিণঘাটা থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠায়।
সৌরথের বাবা তপন ঘোষের দাবি, তাঁর অভিযুক্ত ভাইয়ের যেন ফাঁসি হয়। শোকে বিহ্বল হয়ে তিনি বলেন, ফাঁসি না হলে তিনি নিজে হাতেই খুন করবেন ভাইকে। সৌরথের দিদির অভিযোগ, কাকা ডেকে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে খুন করেছে শিশুটিকে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেরা শুরু করেছে। নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তবেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।