দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলের বোতলে পুরে ক্রেতার কাছে হাড়িয়া পৌঁছে দেওয়ার পথে জলপাইগুড়ির দিনবাজারে পুলিশের ফাঁদে ধরা পড়ল দুই যুবক। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই হাড়িয়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকার লোকজন। অভিযোগ শুনে পুলিশও তৎপর।
কথায় বলে কারও সর্বনাশ তো কারও পৌষমাস। এক মাসের উপরে মদের দোকান বন্ধ আর সেটাকেই কাজে লাগিয়ে একেবারে চড়া দরে এখন হাড়িয়া বিক্রি শুরু হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলায়। লাইন দেওয়ার ঝক্কি নেই। ফোন করে দিলেই হাজির হয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতা। পাঁচ লিটারের তেলের বোতলে পুরে ‘সাপ্লাই’ দেওয়া হচ্ছে হাড়িয়া। এরাই পরিচিত হয়ে গেছে ফ্লাইং হাড়িয়া সেলার নামে।
সাধারণত বাটিতে করে হাড়িয়া বিক্রি হয় জেলার আদিবাসীপ্রধান এলাকাগুলিতে। এক বাটির দাম ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা। এক বাটিতে ধরে মোটামুটি ২০০ মিলিলিটার থেকে ২৫০ মিলিলিটার। সেই হিসাবে এক লিটারের দাম হয় ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। লকডাউন শুরু হতে ক্রমেই হাড়িয়ার দাম বাড়ছে। কারণ মদের দোকান খোলা নেই।
কালোবাজারিদের সব স্টক শেষ গত এক মাসে। তাই এক লিটার হাড়িয়া এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়। কখনও আরও বেশি দামে সেসব বিকোচ্ছে। পুলিশ ও আবগারি দফতর রেড করেছে। আদিবাসীদের এলাকায়। এটি তাঁদের ট্র্যাডিশনাল পানীয় হলেও প্রকাশ্যে বিক্রিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকে এই সুযোগে ব্যবসাও করে নিচ্ছে। এমন খবর পেয়ে পুলিশও চেষ্টা করছে তা বন্ধ করার।
এদিন দিনবাজার এলাকায় পুলিশ ফাঁদ পেতে বসে ছিল। তখন স্কুটিতে চেপে দুই যুবক হাড়িয়া পৌঁছাতে এলে তাদের বামাল ধরে ফেলে পুলিশ। ধৃতদের এক জনের নাম বাপি দাস। তার বক্তব্য হল, “আমার বাড়িতে কাজ চলছিল। শ্রমিকরা বলেন যে নেশা করবেন। তাঁদের জন্য ডেঙ্গুয়াঝাড় বাজারে গিয়েছিলাম। আসার পথে পুলিশ ধরেছে।” প্রত্যক্ষদর্শী বাপ্তু দাসের বক্তব্য, “আমি দাঁড়িয়েছিলাম। দেখলাম দু’জনকে পুলিশ ধরল। তাদের কাছ থেকে হাড়িয়া পাওয়া গেছে। আজকাল এদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। পুলিশের উচিত অভিযান বাড়ানো।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে ধৃত দের আজ জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে।