দ্য ওয়াল ব্যুরো, আসানসোল: পরিত্যক্ত পাথরের খাদানের জলে ডুবে রহস্যজনক ভাবে দুই কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোলে। পুলিশের দাবি, আত্মঘাতী হয়েছে দুই কিশোরী। অন্যদিকে তাদের পরিবারের দাবি, খুন করা হয়েছে দু’জনকে।
সূত্রের খবর, আসানসোল উত্তর থানার কাল্লার বন্ধ খাদানের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় দুই কিশোরীর দেহ। বুধবার বিকেলে কাল্লার মাঝি পাড়ার বীরেন্দ্র যাদবের মেয়ে ২০ বছরের নিশা কুমারী ও জনার্দন যাদবের মেয়ে ১৯ বছরের শিম্পি কুমারী বাড়ি থেকে বের হয় শৌচ করার জন্য। সন্ধ্যা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তারা দু’জনে বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোক খোঁজ করতে শুরু করেন তাদের।
বুধবার রাতেই আসানসোল উত্তর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে দুই কিশোরীর পরিবার। পুলিশও রাতে খোঁজ শুরু করে। কিন্তু কোথাও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় পরিত্যক্ত পাথরের খাদানের পাশে দুই কিশোরীর কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপরে খাদানের মধ্যে শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশের সঙ্গে এই কাজে হাত লাগায় দমকল বাহিনী, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে জলের মধ্যে খোঁজ করতে গিয়ে দুই কিশোরীরই দেহ উদ্ধার হয়।
জানা গিয়েছে, নিশা কুমারী বিহারের স্কুলে পড়াশোনা করে। গত এক মাস আগেই সে আসানসোলে আসে। সেখানে এসে শিম্পির সঙ্গে তার বিন্ধুত্ব হয়। প্রতি দিনের মতো বুধবার বিকেলেও একসঙ্গেই শৌচ করতে যায় তারা। তারপরেই এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের বক্তব্য, প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে আত্মঘাতী হয়েছে ওই দুই কিশোরী। কী কারণে অবশ্য দু’জনে আত্মঘাতী হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয়, খুন করা হয়েছে দু’জনকে। তারপরে দেহ জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনও চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।