দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: দীর্ঘ লকডাউনের পর জঙ্গল খুলতেই জলদাপাড়ায় হাজির পর্যটকরা। ৮ জুন থেকে হোটেল রিসোর্ট খুলতে শুরু করেছে জলদাপাড়ায়। আর ঠিক তার দুই দিন পর অর্থাৎ ১০ জুন ১১ জন পর্যটকদের একটি দল জলদাপাড়ায় এসে পৌঁছয়। এখনও জলদাপাড়াতেই রয়েছেন তাঁরা।
মার্চ মাসের শেষ থেকে দীর্ঘ লকডাউন। সমস্ত কিছু বন্ধ থাকায় বেসামাল অর্থনীতির চাকা। পর্যটনের মরসুমে ক্ষতির বহর বেড়েছে পাহাড় ও ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পেও। একরকম দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ী ও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের। এরই মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের দু’টি পরিবারের এগারো জন সদস্য যেন আশার আলো জ্বেলে দিলেন গোটা ডুয়ার্সেই।
লকডাউনে ছাড় ঘোষণা হতেই সোজা গাড়ি নিয়ে চলে এলেন ডুয়ার্সে। মাদারিহাটে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া একটি বেসরকারি রিসর্টে উঠেছেন তাঁরা। সকালবেলা উঠে বিকেল পর্যন্ত তাঁরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জল-জঙ্গলে। তাঁদেরই একজন দেবরাজ সিং বলেন, ‘‘লকডাউনের জেরে চারিদিকে একটা দম বন্ধ পরিস্থিতি। আর ভালও লাগছিল না। ছাড় মিলতেই মুক্তি পেতে ডুয়ার্সে ছূটে আসা। রাস্তায় আমাদের কোথাও কোনও অসুবিধে হয়নি। থার্মাল স্ক্রিনিং হয়েছে। কিন্তু সবাই সহযোগিতা করেছেন। এখানে এসেও দেখছি আতিথেয়তায় কোনও ঘাটতি নেই। অনেক দিন পর একটু ভাল করে যেন শ্বাস নিচ্ছি।"
ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে ওই পর্যটকদের হাত ধরেই খুলে যাবে পর্যটনের বন্ধ দরজা। আর এই পর্যটকদের আসার সঙ্গে সঙ্গে করোনার আতঙ্ক সরিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরবে ডুয়ার্সের পর্যটন। এক পর্যটন ব্যবসায়ী বিশ্বজিত সাহা বলেন, ‘‘এই এগারো পর্যটকদের দল আমাদের আবার আশার আলো দেখাচ্ছে। ডুয়ার্সে আবার পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করছি। তাঁদের আতিথেয়তার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’’
কিন্তু প্রতিবছরের মতো এ বারও ১৬ জুন থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জঙ্গল। আবার খুলবে ১৫ সেপ্টেম্বর। কাৱণ বর্ষার মরসুমে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধই থাকে। জলদাপাড়ার ডিএফও কুমার বিমল বলেন, ‘‘সেদিক থেকে দেখলে এঁরাই এ মরসুমে জঙ্গলে ঘুরতে আসা শেষ দল। কারণ মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে যাবে জঙ্গল।’’
তবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, প্রত্যেক বর্ষাতেই জঙ্গল বন্ধ থাকে। তার আগে পর্যন্তই মরসুম। তবে করোনার ভয় কাটিয়ে যখন একদল পর্যটক একবার ডুয়ার্সমুখী হয়েছেন, তখন আর চিন্তা নেই। জঙ্গল খুললে অবশ্যই ঢল নামবে পর্যটকের।