বিশ্ব হাতি দিবসে বক্সায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই সঙ্গে দুটি হাতির মৃত্যু, বনকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বিশ্ব হাতি দিবসে বক্সা টাইগার রিজার্ভের হ্যামিলটনগঞ্জ রেঞ্জের ভুতরি বিটে একই সঙ্গে দু’টি হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বনের ভিতর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সঙ্গে গা ঠেকে যাওয়ার ফলেই হাতি দুটির মৃত্যু
শেষ আপডেট: 12 August 2020 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বিশ্ব হাতি দিবসে বক্সা টাইগার রিজার্ভের হ্যামিলটনগঞ্জ রেঞ্জের ভুতরি বিটে একই সঙ্গে দু’টি হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বনের ভিতর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সঙ্গে গা ঠেকে যাওয়ার ফলেই হাতি দুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন দফতর।
বুধবার সকালে ভুতরি ফরেস্ট বিটে লোহার বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ায় দুটি হাতির দেহ পড়ে থাকতে দেখেন বনকর্মীরা। দুটিই মাদি হাতি। বনকর্মীরা এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শুরু করেন। হাতির মৃত্যুতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই নিয়ে গত তিন মাস তিন দিনে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে পাঁচটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। উত্তরবঙ্গে হাতির সবচেয়ে বড় স্বাভাবিক বাসস্থানে এই ঘটনার পরে বনের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, “ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। মৃত দুই হাতির মধ্যে একটি সাব অ্যাডাল্ট ও একটি অ্যাডাল্ট। বনের ভিতর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের তারের সঙ্গে সংযোগ হয়ে যাওয়ায় হাতি দুটির মৃত্যু হয়েছে।” বন দফতরের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিদ্যুৎ দফতর। তাদের দাবি, এলাকায় কোনও শর্টসার্কিট হয়নি বা তার ছিঁড়ে থাকার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। বিদ্যুৎ দফতরের আলিপুরদুয়ারের ডিভিশনাল ম্যানেজার দীপেন খাওয়াস বলেন, “বন দফতর বলার পরে আমরা সেখানে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দিই। লাইন ঠিকঠাকই ছিল। কোন তার ছেঁড়া ছিল না। লোহার বিদ্যুতের খুঁটি আর্থিং করা রয়েছে। কী ভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতির মৃত্যু পারে তা বুঝতে পারছি না। আমরাও ময়না তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।”
ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে কালচিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বন দফতর।

গত তিনমাসে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীন বনে একের পর এক হাতির মৃত্যু ঘটেছে। কখনও বন লাগোয়া এলাকায় ফসলের ক্ষেতে বেআইনি বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আর এবার তো বনের মধ্যেই। এ বছর ৯ জুন পূর্ব বিভাগের নুরপুর ফরেস্টে একটি পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়। ১৬ জুন পশ্চিম বিভাগের মারাখাতা ফরেস্টে মাকনা হাতির মৃত্যু হয়। ৯ জুলাই পশ্চিম বিভাগের রাজাভাতখাওয়ায় চার বছরের হাতি শাবকের মৃত্যু হয়। আর বুধবার ১২ আগস্ট পশ্চিম বিভাগের ভুতরি ফরেস্টে জোড়া হাতির মৃত্যু হল।
আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অমল দত্ত বলেন, “বন ও বন্যপ্রাণ শেষ হয়ে যাবে। ঢাল নেই তলোয়ার নেই – বন দফতর যেন নিধিরাম সর্দারে পরিণত হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।”