দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখের সামনে বোনকে পুকুরে তলিয়ে যেতে দেখে ছুটে বাঁচাতে গিয়েছিল দিদি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুই বোনেরই। শনিবার এই ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রানিনগর থানার বেনিপুর শিমুলতলা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত দুই বোনের নাম রশিদা খাতুন (১০) এবং আরিফা খাতুন (১২)। দেহ উদ্ধার করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে রানিনগর থানার পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পেশায় দিনমজুর আবদুল জব্বরের দুই মেয়ে রশিদা এবং আরিফা। এদিন দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে স্নান করতে যায় দুই বোন। জলের মধ্যে কিছুটা নামার পরেই পাঁঁকে পা আটকে যায় রশিদার। ক্রমশ ডুবে যেতে থাকে সে। বোনকে এই অবস্থায় দেখে তাকে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেয় আরিফা। বোনকে টেনে নিয়ে পাড়ের দিকে আসার চেষ্টা করে সে। কিন্তু ক্রমশ পাঁকে জড়িয়ে যেতে থাকে আরিফাও। সে সময় পুকুর ঘাটের আশেপাশে কেউ না থাকায় সাহায্যে জন্য চিৎকার করে ডেকেও লাভ হয়নি। কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তলিয়ে যায় দুই বোন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই পুকুর খুব একটা গভীর নয়। কিন্তু দুই শিশুর তুলনায় জলের মাত্রা বেশ বেশিই ছিল। সেই সঙ্গে জলাশয়ে ছিল পাঁক। অনুমান তার জেরেই ঘটেছে এই অঘটন। এদিকে স্নান করতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দুই বোন বাড়ি না ফেরার রশিদা এবং আরিফাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে তাদের বাবা-মা। প্রথমে কারও খেয়াল না পড়লেও পরে ওই পুকুরে নেমে দুই বোনকে খুঁজতে শুরু করেন এলাকাবাসীর। দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর হঠাৎই জলে ভেসে ওঠে দুই বোনের দেহ।
দুই বোনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। অকালে সন্তানহারা হয়ে ভেঙে পড়েছেন রশিদা এবং আরিফার মা-বাবাও। স্থানীয়রাও জানিয়েছেন, কাছাকাছি বয়স হওয়ায় সারাক্ষণ দুই বোন একসঙ্গেই থাকত। ভাব-ভালবাসার মধ্যে লেগেই থাকত খুনসুটি। পাড়ার সকলের আদরের ছিল এই দুই বোন। তাদের এ হেন আকস্মিক পরিণতিতে শোকের পরিবেশ গোটা এলাকায়।