দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে গাছ কাটা ও অবৈধ নির্মাণে বাধা দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়লেন কয়েক জন বনকর্মী। সরকারি কর্মীদের উপরে হামলার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে আউশগ্রাম থানার পুলিস। ধৃতদের নাম ঠাকুর সরেন ও ঠাকুর মুর্মু। তাদের বাড়ি আউশগ্রামের উপরডাঙায়।
বন দফতর সূত্রে জানা গেছে হামলার সময়ই ঘটনাস্থল থেকে ঠাকুর সরেন নামে এক অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন দফতরের কর্মীরাই। পরে তাকে তুলে দেন পুলিশের হাতে। অপর জনকে উপরডাঙার বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। শনিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হলে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে সোমবার ফের আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন সিজেএম রতনকুমার গুপ্ত।
আউশগ্রাম থানার উপরডাঙায় বন-নবগ্রাম স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিছনে বন দফতরের বেশ কয়েকটি গাছ কেটে সেখানে ঠাকুর মুর্মু নামে এক ব্যক্তি অবৈধ নির্মাণ করছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে দফতরের এক দিনমজুরকে নিয়ে সেখানে যান ফরেস্ট গার্ড প্রসেনজিৎ সিকদার। গাছ কাটা ও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করার কথা বলেন তাঁরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঠাকুর মুর্মু তাঁদের গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। এমনকি কুড়ুল নিয়ে তাঁদের তাড়াও করে।
তখনকার মতো চলে গেলেও বিষয়টি তাঁরা দফতরের আধিকারিকদের জানান। এরপরে বিকালে আউশগ্রাম বিট অফিসের বেশ কয়েক জন কর্মী ঘটনাস্থলে যান। ঠাকুর মুর্মু তখনও তাঁদের লাঠি ও কুড়ুল নিয়ে তাড়া করে বলে অভিযোগ। এমনকি মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। সেই সময় আচমকা ঠাকুর সরেন লাঠি নিয়ে বন দফতরের কয়েক জন কর্মীকে মারধর করে। বন দফরের কর্মীরা তখন ঠাকুর সরেনকে ধরে ফেলেন। কয়েকটা কাটা গাছের অংশও তাঁরা উদ্ধার করে নিজেদের অফিসে নিয়ে আসেন।
বিট অফিসার আসরাফুল ইসলাম বলেন, “আমরা খবর পাই যে বন বিভাগের জায়গা দখল করে কয়েক জন লোক বাড়ি করছে এবং গাছও কেটেছে। প্রথমে যে কর্মীরা গিয়েছিলেন তাঁদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে বন বিভাগের একটি টিম যায়। তখনও অভিযুক্তরা বাধা দেয়। তবে বনকর্মীরা একজনকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্য জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তার বাড়ি থেকে।”
ঘটনার কথা জানিয়ে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন বিট অফিসার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া, মারধর করা ও বন আইনে মামলা রুজু করে পুলিস।