দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামীণ অর্থনীতির সংকট কাটাতে একশো দিনের কাজে সরকার অনুমতি দিয়েছে ঠিকই কিন্তু তাতে লাভ হয়নি বাঁকুড়ার জয়পুরের বহু বনবাসীর। জঙ্গলে শুকনো কাঠ কুড়িয়ে আর পাতা সংগ্রহ করে যাঁদের দিন কাটে তাঁদের খুব একটা সুবিধা হওয়ারও কথা নয়। লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁদের সমস্যা আরও বেড়েছে।
বাঁকুড়ার জয়পুরের সলদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ছোট্ট গ্রাম বিনের পাড়। এখানকার সিংহভাগ মানুষ বনজ সম্পদের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুকনো কাঠ সংগ্রহের পাশাপাশি জঙ্গলের কাঁচা শালপাতা তুলে তা সেলাই করে বাজারে বিক্রি করাই এঁদের মূল পেশা। লকডাউনের ফলে এখন তাঁরা সংকটে পড়েছেন। সিংহভাগ দোকানপাট বন্ধ। হোটেলও বন্ধ। ফলে চাহিদা নেই হাতে সেলাই করা শালপাতার থালার। স্বাভাবিক ভাবেই পেটে টান পড়ছে প্রান্তিক গ্রামের এই আদিবাসীদের।
স্থানীয় জয়পুরের জঙ্গল থেকে পাতা সংগ্রহ করে আনেন এখানকার মানুষ। তারপরে তা যত্ন করে সেলাই করে রোদে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করেন। খুবই কষ্টের কাজ তবে তা থেকে আয় হয় খুবই কম। তা দিয়ে কোনও রকমে তাঁদের সংসার চলে। এখনও তাঁরা একই ভাবে কাজ করে চলেছেন। পাতা সংগ্রহ করে তাঁরা থালা বানাতে থাকলেও এখন তার বিক্রি নেই। ফলে পেটে টান।
সরকারি রেশন দিয়ে তো আর জীবন চলে না। তাই বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ এখন অপেক্ষা করছেন কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। বিনের পাড় একটা উদাহরণ মাত্র। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে থাকা বনাঞ্চলের বহু আদিবাসীই এখন চরম সমস্যায়।