দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: আগের দু’দিনের লকডাউনের কড়াকড়ির ফল পেল পুলিশ। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকা আগের দু’টি লকডাউনের তুলনায় একেবারেই ফাঁকা ছিল। গত বুধবার ও শনিবারের লকডাউনে পুলিশ ধরপাকড় করার পরে এদিন মোটের উপর রাস্তায় লোক প্রায় ছিলই না। সীমানা এলাকায় আগের চেয়ে আরও বেশি কঠোর ছিল পুলিশ।
তৃতীয় দিনের লকডাউনে পশ্চিম বর্ধমান জেলার ১৯টা থানার সবক’টিতেই কড়া মনোভাব নিতে দেখা যায় পুলিশকে। জেলায় দুটি মহিলা থানা রয়েছে – আসানসোল মহিলা থানা ও দুর্গাপুর মহিলা থানা। এই দুই থানা এলাকার পুলিশও তৎপর ছিল।
সকাল থেকে এগারোটার মধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিধি ভাঙার অভিযোগে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। এ মাসে আগে যে দু’দিন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে দুই জেলায় পুলিশ অন্তত চারশো জনকে গ্রেফতার করেছিল। তার জেরেই অকারণ লোকজন তেমন বের হয়নি। এদিন সকাল থেকে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার শুধুমাত্র ডুবুডিহি সীমানা খোলা রয়েছে। বিশেষ অনুমতিপত্র থাকলেও কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র যাঁরা জল পরিষেবা, বিদ্যুৎ দফতর, কেন্দ্রীয় সরকারের কল-কারখানা এবং খনির সঙ্গে যুক্ত শুধুমাত্র তাঁদের সীমানা পেরোতে দেওয়া হচ্ছে। অন্য কাউকে এ রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ঝাড়খণ্ডেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবারের লকডাউনে ভিন রাজ্য থেকে ফেরা যাত্রীরা আসানসোলে ফিরে বিপাকে পড়েন। এদিন অবশ্য কোনও ট্রেন ঢোকেনি। আগের দিন আসানসোল স্টেশন চত্বরে খোলা খাবারের দোকানে ঢুকে পুলিশ উনুনে জল ঢেলে আগুন নিভিয়ে দিয়েছিল। এ দিন সব দোকান বন্ধই ছিল। সকালের দিকে কুলটি থানার নিয়ামতপুরে একটি চায়ের দোকান খোলা দেখে পুলিশ সেটি বন্ধ করে দেয়। দোকানিকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিনও বাইক থামিয়ে পুলিশ তল্লাশি করে। যাঁরা রোগী নিয়ে ডাক্তারখানায় যাচ্ছিলেন তাঁদের ছাড়া অন্য কাউকে ছাড়া হয়নি। এদিন এটিএম খোলাই ছিল। বিভিন্ন হাসপাতালের কাছাকাছি সব ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও অন্য ওষুধের দোকান বেশিরভাগই বন্ধ ছিল।
অন্য জেলার তুলনায় পশ্চিম বর্ধমানের অবস্থা এখন অনেকটা ভাল হলেও এই জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় নতুন করে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার ফলে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭২৯। অবশ্য আগের দিনই ৭৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় এ পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৪২৮। জেলায় মোট ২৯৩ জন এখন করোনা পজিটিভ। কোভিডে মৃত্যু হয়েছে আট জনের।