দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম বর্ধমানের চিত্তরঞ্জন রেল কলোনিতে এক তৃণমূলকর্মী তথা ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম বলরাম সিং (৩৫)। সালানপুর ব্লক তৃণমূলের যুব নেতা মুকুল উপাধ্যায় জানিয়েছেন, বলরাম সিং তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
জানা গিয়েছ, সম্প্রতি চিত্তরঞ্জন রেল ওয়ার্কশপ কর্তৃপক্ষ রেলের স্ক্র্যাপ বিক্রির টেন্ডার ডেকেছে। এদিন সকাল ন’টা নাগাদ পেশায় স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ী বলরাম চিত্তরঞ্জন কারখানার জিএসডি গেটের ভিতর নিলামের মাল নেওয়ার জন্য যান। সেখান থেকে বিকেল পাঁচটা নাগাদ একটি হলুদ স্কুটিতে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বিকেল পাঁচটা নাগাদ জিএম অফিসে যাওয়ার রাস্তায় একটি কালো পালসার মোটর সাইকেলে চড়ে দুই দুষ্কৃতী হেলমেট পরে আসে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বলরামকে গুলি করে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনাস্থলেই স্কুটি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন বলরাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে আরপিএএফ। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কেজি হাসপাতালে। সেখানেই বলরামকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, দুটি গুলি লাগে বলরামের। একটি বুকে এবং অন্যটি মাথায়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল নেতা মুকুল উপাধ্যায়ও সেই অনুমান করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আমরা প্রশাসনকে সাত দিন সময় দিয়েছি এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করার জন্য। না হলে বড় আন্দোলন হবে। মুকুলবাবু আরও জানিয়েছেন, বলরাম সংসার আর ব্যবসা নিয়েই থাকত। এক বছরে আগেই নিজের বাবাকে কিডনি দান করেছিলেন বলরাম।
এই খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চিত্তরঞ্জন রেল কলোনি এলাকায়। কয়েকদিন আগেই সেখানে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল। তারপর এদিন এই খুন। রেলের নিরাপত্তার পাঁচিল ঘেরা জায়গায় কী ভাবে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য প্রতিদিন বাড়ছে তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। চিত্তরঞ্জনের পাঁচিলের একটি দিক ঝাড়খণ্ডের সীমান্ত। এমকি রেল স্টেশনে যেতে গেলেও ঝাড়খণ্ডের মিহিজাম হয়ে যেতে হয়। এই এলাকায় ঝাড়খণ্ডের প্রচুর লোকজন আসেন। সেক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরা কোন দিকে গিয়েছে সেটাই এখন খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ।