দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ জুলাই শহিদ দিবস হোক কিংবা তৃণমূলের ব্রিগেড, একরাশ কালো মাথার ভিড়েও নজর কেড়ে নেন তিনি। সারা গায়ে তৃণমূলের পতাকা এঁকে, মা-মাটি-মানুষের স্লোগান লিখে, দলনেত্রীর ছবি নিয়ে, তিনি ঠিক পৌঁছে যান সভাস্থলে। তৃণমূলের কোনও বড় নেতা বা হোমরা-চোমরা নন তিনি। তবে ভবানীপুরের মল্লিক লেনের বাসিন্দা অজিত কুণ্ডুকে এক ডাকে চেনেন তৃণমূলের বহু নেতা এবং কর্মী-সমর্থক।
সেই ২০০৪ সাল থেকে শুরু। তার পর থেকে একটি বছরের জন্যও নিয়মের অন্যথা হয়নি। কেবল দল এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবেসেই অজিত হাজির হয়েছেন বহু মিটিং-মিছিলে। নিঃস্বার্থ ভাবেই নিষ্ঠার সঙ্গে দিনের পর দিন নিজের শরীরে লাগিয়েছেন নানা রঙ। এমনকী মাথা ন্যাড়া করে পর্যন্ত স্লোগান লিখেছেন, এঁকেছেন তৃণমূলের দলীয় পতাকা। নানা রকমের ছবিও আঁকা থাকে তাঁর সারা গায়ে এবং চোখে-মুখে। তবে এ বছর সে সবের লেশমাত্র নেই। বরং সঙ্গী হয়েছে মনখারাপ।
এ বছর লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনেও সকাল থেকেই রঙ মেখে তৈরিই ছিলেন অজিত। কিন্তু বেলা গড়াতেই বুঝতে পারলেন, ট্রেন্ড আর ৫ বছর আগের মতো নেই। বরং বেশ কিছু জায়গায় ভরাডুবি হয়েছে দলের। খুব মন খারাপ নিয়েই গায়ে আঁকা সব ছবি মুছে ফেলেন। তবে হাজার বিষাদ সত্ত্বেও এ দিন অজিত পৌঁছে গিয়েছিলেন কালীঘাটে। তবে অন্য দিনের মতো অতটা হাসিখুশি ছিলেন না অজিত।
কানের পাশে তখনও রয়েছে হাল্কা রঙয়ের আভা। জানালেন, "এ বারও ন্যাড়া হয়েছিলাম রেজাল্টের ক'দিন আগেই। কিন্তু কী যে হয়ে গেল।" তবে সাময়িক ভাবে হতাশ হলেও, অজিত আশাবাদী যে আগামী দিনে ফের ঘুরে দাঁড়াবে তাঁর দল। বরাবরই হাসিখুশি মেজাজে অন্য ছন্দে দেখা যায় অজিতকে। তবে চলতি বছর তৃণমূলের ফলাফল দেখে খানিক আক্ষেপের সুরেই তিনি বলেন, "এমন ফল হবে ভাবতেই পারিনি। তবে আশা করছি আগামী দিনে সব ঠিক হয়ে যাবে।"