দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধানরাই। ইতিমধ্যেই তাঁরা এব্যাপারে আমতা ২ নম্বর ব্লকের বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
আমতা ২ নম্বর ব্লকে প্রায় প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যা হয়। আগাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সদ্য ঘটে যাওয়া উমফান ঝড়ের ক্ষতি নিয়ে আমতা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও আসিক ইকবাল একটি সভা ডাকেন। এই সভায় সরকারি আধিকারিক, স্থানীয় বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানদের ডাকা হয়। সোমবার বিকালে ডাকা সভায় অধিকাংশ পঞ্চায়েত প্রধান, বিধায়ক ও দু’জন সরকারি আধিকারিক উপস্থিত হলে বিডিও জানান বিশেষ কারণে সভা বাতিল হয়েছে।
আসিক ইকবাল বলেন, “সোমবার বিকালে এক আধিকারিক সভা বাতিল করতে বলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গেই ইমেল করে সভা বাতিল করি। সকলের ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর না থাকার জন্য খবর পাঠাতে পারিনি। তাই অনেকেই এসে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন।” সভা বাতিলের খবর পেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পঞ্চায়েতের প্রধানরা।
তাঁদের অভিযোগ, প্রধানদের অন্ধকারে রেখে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল নিজে উমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছেন। আমতা ২ নম্বর ব্লকের তাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গোলাম খাঁ বলেন, “উমফান ঝড়ে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাঁদের নামের তালিকা করে বিডিও অফিসে জমা করেছি কিন্তু পরবর্তী সময়ে জানতে পারছি সেই তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কোথা থেকে নতুন তালিকা হল এবং সেই তালিকায় কাদের নাম আছে সেই বিষয়ে বিডিওর কাছে জানতে চেয়েছি।”
একই বক্তব্য ঝিখিরা পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ পণ্ডিতের। থলিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ফজিলা মণ্ডল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তরা বারে বারে পঞ্চায়েতে এসে ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন কিন্তু তাঁদের আমরা কিছু দিতে পারছি না। সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল যে সমস্ত মানুষের ক্ষতি হয়নি তাঁদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিচ্ছেন। প্রধানদের তিনি কোনও কাজ করতে দিচ্ছেন না।” তাঁদের অভিযোগ, সরকারি কোনও প্রকল্প এলেই সভাপতি আগেভাগে তালিকা তৈরি করে জমা করে দিচ্ছেন। আমতা ২ নম্বর ব্লকে সভাপতি একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন।
অভিযোগ খারিজ করে সুকান্ত পাল বলেন, “আমি কোনও রকম দরখাস্ত জমা নিইনি। আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। এই বিষয়গুলি বিডিও দেখেন।”
আমতা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও আসিক ইকবাল বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধানরা উমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”