
শেষ আপডেট: 20 December 2018 07:50
দেখুন কী লিখেছেন সৌমিত্র [/caption]
রাজনীতিতে সৌমিত্রর হাতেখড়ি হয়েছিল কংগ্রেসে। পরে মুকুল রায় তাঁকে হাত ধরে নিয়ে আসেন তৃণমূলে। প্রথমে যুব সভাপতি হন সৌমিত্র। পরে সাংসদ। স্বাভাবিক ভাবেই ফেসবুক পোস্টে যে ‘রাজনীতির’ কথা বলেছেন সৌমিত্র তা তৃণমূলের রাজনীতি বলেই ধরে নিচ্ছেন সকলে।
কিন্তু কী এমন হল তাঁর সঙ্গে যে অসন্তোষ উগড়ে দিচ্ছেন সৌমিত্র?
এ দিন সকালে সৌমিত্র ফেসবুক পোস্টটি লিখতেই হই হই পড়ে যায় তৃণমূলে। পরে তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এমনি লিখেছি। রাজনীতিতে তেল ছাড়া তো চলছে না। দেখতেই তো পাচ্ছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রেই তো তাই।” কিন্তু এ কথায় দলের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে না? সৌমিত্র বলেন, “তা কেন? ব্যক্তি সৌমিত্র খানেরও তো মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। পারসোনাল স্পেসে আমি মনের কথা লিখতেই পারি।” এ পর্যন্তও ঠিক ছিল। এর পরই কথা প্রসঙ্গে সৌমিত্র মেনে নেন বাঁকুড়ায় বিজেপি চাপ বাড়াচ্ছে। তাও মোকাবিলা করা যেত। কিন্তু বাঁকুড়ায় তৃণমূলের ছেলেদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, তাতে তাদের ধরে রাখা মুশকিল। তিনি অভিযোগ করেন, অত্যাচার হচ্ছে তাঁর উপরেও।
[caption id="attachment_63217" align="aligncenter" width="395"]
দেখুন কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে পোস্টের [/caption]
বাংলায় শাসক দল তৃণমূল। সেখানে তৃণমূল সাংসদের উপরেই যদি অত্যাচার হয় তা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ বলতে হয়। সৌমিত্র-র কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কে অত্যাচার করছে তাঁর উপরে? জবাবে তিনি বলেন, “জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ খাঁ এবং আরও অনেকে রয়েছেন।”
[caption id="attachment_63218" align="aligncenter" width="311"]
দেখুন কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে পোস্টের [/caption]
এ ব্যাপারে অরূপ খাঁ-র প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ওঁর বাক স্বাধীনতা রয়েছে। যা ইচ্ছা বলুন।
বুধবারই বাঁকুড়ার ছাতনায় যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র। তার পর ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই এ ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের একটি সূত্রের বক্তব্য, অরূপ খাঁ-র বিরুদ্ধে সৌমিত্র-র রাগ রয়েছে। তা থেকেই এ কথা বলছেন তিনি।
আবার দলের অন্য একটি সূত্রের মতে, মুকুল রায় তথা বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন সৌমিত্র। তিনি হয়তো আশঙ্কা করছেন, লোকসভা ভোটে দিদি এ বার তাঁকে টিকিট নাও দিতে পারেন। কেন না তাঁর উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সন্তুষ্ট তা নয়। বরং এক বার তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে সবার সামনেই মমতা বলেছিলেন, ‘এই যে সৌমিত্র, খালি বালি চুরি করলে আর অন্যের পার্টি অফিস দখল করেই চালিয়ে যাবে নাকি! কী ভেবেছ টা কী?’ হতে পারে সে সব কারণে সৌমিত্র বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা রাখছেন। বিষ্ণুপুরে দল তাঁকে ফের টিকিট দিলে তৃণমূল হয়তো ছাড়বেন না সৌমিত্র। কিন্তু না দিলে মুকুল রায় অপেক্ষায় রয়েছেন।
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-government-appeals-to-division-bench-regarding-rathayatra-issue/