দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তুললেন নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে মিহিরবাবু অভিযোগ করেন, রেজিস্টার্ড নয় এমন একটি সংস্থার নাম করে দিনহাটা হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা তুলছেন উদয়ন গুহ। হাসপাতালের সুপার রঞ্জিত মণ্ডলের বিরুদ্ধেও এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন মিহির। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে কোচবিহারের রাজনীতিতে।
পাল্টা উদয়ন গুহ বলেছেন, দিনহাটার মানুষের জন্য মিহিরবাবুকে না ভাবলেও চলবে। শিশুদের স্বার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনও অন্যায় নেই।
মিহিরের বক্তব্য, দিনহাটা শিশু মঙ্গল সমিতির নাম করে রসিদ ছাপিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে। যে সংস্থা রেজিস্টার্ড নয় তারা কী ভাবে টাকা তুলতে পারে। বিজেপি বিধায়কের আরও প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালের জন্য কি বেসরকারি সংস্থা এই ভাবে টাকা তুলতে পারে? তাহলে স্বাস্থ্য দফতর কী করছে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে। মিহির এদিন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন? রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কি এতই করুণ অবস্থা যে, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি কাজ করতে হচ্ছে? সেটা করছেন প্রাক্তন তৃণমূলের বিধায়ক। সাধারণ মানুষের থেকে অর্থ তুলে নিজে আত্মসাৎ করেছে না তো ? মুখ্যমন্ত্রী কি অবগত আছেন এই সব কাজের বিষয়ে?”
স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার তদন্ত করতে হবে। বিধানসভাতেও এই কথা তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মিহির গোস্বামী। শুধু তাই নয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকেও এ ব্যাপারে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা। মিহিরবাবুর এও অভিযোগ, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
উদয়নবাবুও মেনে নিয়েছেন, দিনিহাটা শিশু মঙ্গল সমিতির কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। অস্থায়ী একটি কমিটি গড়ে এই টাকা তুলে দিনহাটা হাসপাতালে শিশুদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দিনহাটার মানুষ হইহই করে এর জন্য টাকা দিচ্ছেন। কেন এই উদ্যোগ? উদয়ন গুহর বক্তব্য, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ শিশুদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দিনহাটার শিশুদের যাতে বাইরে নিয়ে না যেতে হয় তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমস্ত উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো থাকবে এখানে। মিহিরের পাল্টা সমালোচনা করে উদয়ন বলে, মানুষের ভাল হয় এমন কাজ করতে দেখলেই এই ভদ্র লোকের গাত্রদাহ হয়। ওঁকে দিনহাটা নিয়ে না ভাবলেও চলবে।
মিহিরবাবু তোলা টাকার হিসেব নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তারও জবাব দিয়েছেন উদয়ন। তাঁর কথায়, সমস্ত পাই পয়সার হিসেব ছাপিয়ে দিনহাটার মানুষকে আমরা দিয়ে দেব। উদয়নবাবু একসময় ফরওয়ার্ড ব্লক করতেন। তাঁর বাবা প্রয়াত কমল গুহ ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রবাদ প্রতিম নেতা। সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি উদ্যোগের প্রশ্নে তৃণমূল নেতা উদয়ন বলেন, “বাম জমানায় দিনহাটায় প্রচুর লোডশেডিং হতো। দিনহাটা হাসপাতালে রোগীদের যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য প্রয়াত কমল গুহ ব্যক্তিগত খরচে দিনের পর দিন জেনারেটর দিতেন।”
দিনহাটা শিশুমঙ্গল সমিতির সম্পাদক উদয়ন গুহ। সহ সভাপতি হাসপাতালের সুপার রঞ্জিত মণ্ডল। হাসপাতাল সুপারের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে। সব মিলিয়ে সরকারি হাসপাতালের নামে টাকা তোলার অভিযোগ ঘিরে সরগরম দিনহাটা।