দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌজন্যের অনন্য নজির দেখল জলপাইগুড়ি! এসএফআইয়ের আগুনখেকো নেত্রী তথা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের বক্তৃতা শুনে বিহ্বল হয়ে পড়লেন তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি গিয়েছিলেন ঐশী। ছিলেন এসএফআইয়ের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মধুজা সেন রায়ও। এসএফআই প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে জেলায় জেলায় কর্মসূচি চলছে। মিছিল, সভা ইত্যাদি কর্মসূচিতে জুড়ে যাচ্ছে প্রজন্ম।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি শহরের সমাজপাড়া মোড়ে সভা হয় এসএফআইয়ের। সেখানেই বক্তৃতা করেন ছাত্র নেত্রী ঐশী। কেন্দ্রের শিক্ষানীতি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে সরকার নিয়ে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানান।
ঐশী বলেন, "আমি একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী। আমরা জানি একটা নির্বাচিত সরকার সবসময় মানুষের পাশে থাকে। কিন্তু এই রাজ্যের সরকারকে দুয়ারে সরকার বলেক্যাম্পেইন করতে হচ্ছে। তার মানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তারা কোনওদিন মানুষের পাশে ছিল না। আমরা দেখেছি এই রাজ্যে বাম সরকার সবসময় মানুষের পাশেই ছিল। তাই সামনেই নির্বাচন। মানুষ যেন তার অভিজ্ঞতার নিরিখে ভোট দেন।"
ঐশী যেখানে বক্তৃতায় আগুন ঝড়াচ্ছিলেন, তার উল্টো দিকেই তৃণমূলের জেলা দফতর। সভা শেষ করে ঐশী গাড়িতে উঠে পড়েছেন। সবুজ পাঞ্জাবি পড়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হন দুলালবাবু। বলেন, "মেয়েটি বড্ড ভাল বক্তৃতা করেন। ওঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানাই।"
ঐশী তখন গাড়িতে উঠে পড়েছেন। শিক্ষক নেতা বিপ্লব ঝাঁ তাঁকে ডেকে আনেন। তারপর তৈরি হয় সৌজ্ন্যের রাজনীতির অনন্য ফ্রেম।