দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের উপস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব না মেনেই উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে পালন করা হল রথযাত্রা। পুলিশকে দেখা গেল রথের আগে পথ করে দিতে। ঐতিহ্যবাহী নয়, এই নিয়ে তিন বছরে পা দেওয়া উৎসবকে পুলিশ কেন এত গুরুত্ব দিয়েছে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে এলাকার তৃণমূল নেতা হিসাবে গৌতম পাল পরিচিত হওয়ার পরে এই রথযাত্রা শুরু হয়। প্রথম থেকে তিনিই উদ্যোক্তা, তিনিই উদ্বোধক। করোনার আবহে যখন পুরী ছাড়া অন্যত্র রথ বের করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এমনকি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথের চাকাও এবছর গড়ায়নি সেখানে এই রথযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউই অবশ্য প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনও কথা বলছেন না।
হেমতাবাদের বাহারাইলে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এ বছরও গেলেন মাসির বাড়ি। যথারীতি বাজলো ঢাকঢোল। পুজোও হয়েছে সব রীতি মেনে। উৎসবের কোনও আয়োজনেই ঘাটতি ছিল না। বদল বলতে একটাই – শুধু ১৪ কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ির দূরত্ব কমিয়ে এক কিলোমিটার করে ফেলা হয়েছে। এলাকার জেলাপরিষদ সদস্যা পম্পা পাল ও তাঁর স্বামী তথা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গৌতম পাল এই রথযাত্রার সূচনা করেন।
মাত্র তিন বছর আগে এই উৎসব চালু হয়েছে। বিগত দুবছর বাহারাইল হরিবাসর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে বিন্দোলের বাহিন গ্রামে নিয়ে যাওয়া হত রথ। রাখা থাকত সেখানেই। তবে এ বছর করোনা মহামারীর আকার ধারণ করায় এবং রাজ্যে আক্রান্চের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বাহারাইল হরিবাসর থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে বাহারাইল চণ্ডী মন্দিরে গিয়ে থেমে যায় রথ।
গৌতম পাল এদিন দাবি করেন, যাঁরা এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের হাতে তিনি নিজে স্যানিটাইজার দিয়েছেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তো বটেই রথযাত্রা চলাকালীনও তিনি স্যানিটাইজার দেন উৎসবে যোগ দিতে আসা মানুষের হাতে। তিনি বলেন, “সামাজিক দূরত্ব মেনে, স্যানিটাইজড হয়ে এবং মাস্ক ব্যবহার করে সকলে এই উৎসব পালন করছেন।”
বাস্তবে অবশ্য তা দেখা যায়নি। অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না। উৎসবের মধ্যে বারে বারে হাতে স্যানিটাইজ লাগাতেও দেখা যায়নি উৎসবে যোগ দেওয়া লোকজনকে।