দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমানঃ পরনে সাদা শার্ট, সাদা প্যান্ট। মাথায় সাদা ফেটি। পায়ে সাদা জুতো। ঠিক যেন ৮০-র দশকের হিন্দি ছবিতে জিতেন্দ্র। নাহ, ইনি অবশ্য জিতেন্দ্র নন। ইনি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের তৃণমূল নেতা আবদুল লালন। আর তাই পোশাকে জিতেন্দ্রর সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলেও কোমরে গোঁজা রয়েছে পিস্তল। ওভাবে কোমরে পিস্তল নিয়েই নাকি দলীয় মিছিলে অংশ নিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
আউশগ্রামের ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি এই আবদুল লালন। তাঁর বাড়ি আউশগ্রামের গেঁড়াই গ্রামে। এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বলেই তিনি পরিচিত। এছাড়া অজয় নদ থেকে বালি তোলার কারবারও নাকি তাঁর রয়েছে। এহেন লালনেরই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে সাদা প্যান্ট, সাদা শার্ট এবং মাথায় সাদা ফেট্টি জড়িয়ে ফোন কানে দিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত ওই তৃণমূল নেতা। কোমরে গোঁজা একটি পিস্তল। তাঁর আশপাশে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পিছনে রয়েছে একটি মারুতি ভ্যান। মারুতি ভ্যানের সামনে লাগানো ব্যানারের লেখায় কিছুটা অংশ ছবিতে দেখা যাচ্ছে। তা দেখে বোঝা যায় কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিবিলের প্রতিবাদে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময়েই এই ছবি তোলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের দেবশালা অঞ্চলে কৃষিবিলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল হয়। সেই মিছিলে অংশ নেওয়ার সময়েই এই ছবি তোলা হয়েছিল বলে একাংশের দাবি।
প্রকাশ্য এই মিছিলে পিস্তল নিয়ে যোগ দেওয়ার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। জানা গিয়েছে, আবদুল লালনের একটি লাইসেন্স যুক্ত পিস্তল রয়েছে। এই ছবি দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন নিজের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল কারও থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে দিনদুপুরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় ওইভাবে প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে ঘোরা কি ঠিক?
এই বিতর্ক শুরু হওয়ার পরে আবদুল লালন অবশ্য বলেন, “আমার লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল আছে। তবে দলীয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় পিস্তল কাছে ছিল না। ওটা অন্যসময়ের তোলা ছবি। সেই ছবি কেউ বা কারা ছড়িয়ে আমাকে ও দলকে বদনাম করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষ বলেছেন, “দেবশালার মিছিলে আমিও ছিলাম। কিন্তু ওই সময়ের ছবি ওটা নয়। অন্য কোনও সময়ে ফোটোশ্যুটের ছবি এভাবে দেখিয়ে আমাদের দলকে ও লালনকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, লালন সব জায়গাতে, সব সময়েই ওই পিস্তল নিয়ে ঘুরে বেড়ান। শুক্রবার দেবশালার মিছিলে লালন ওই পিস্তল নিয়েই অংশ নেন। ওই ছবি ওই দিনেরই তোলা।
বিরোধিতা শুরু করেছে বিজেপিও। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এভাবে প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে ঘুরছেন এক তৃণমূল নেতা। অন্যদিকে গুসকরার এক তৃণমূল নেতার (পড়ুন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়) বাড়ি থেকে দুটি বন্দুক উদ্ধার হচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ঠিক কোন জায়গায় আছে। লালনকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।