দ্য ওয়াল ব্যুরো: থানায় গিয়েছিল গণ্ডগোলের খবর। বুথের সামনে ছুটে এসেছিল পুলিশবাহিনী। কিন্তু পুলিশ দেখেই রেগে গেলেন কুমারগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মাহমুদা বেগম। আঙুল তুলে পুলিশকে শাসিয়ে পাঠিয়ে দিলেন বুথের সামনে থেকে।
বিজেপি অভিযোগ জানায় বালুরঘাট লোকসভার অন্তর্গত কুমারগঞ্জের ১৭০ নম্বর বুথে তাদের এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেন প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর বাহিনী। বিজেপি-র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শের্ষ নেতা গৌতম চক্রবর্তীর অভিযোগ, মাহমুদা বেগম ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট করাচ্ছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পরই স্পটে যায় পুলিশ। কিন্তু মাহমুদা ধরে ফেলেন নিজের মূর্তি।
রোদের তাপ থেকে বাঁচতে মাথায় শাড়ির আঁচলটা ঢাকা দিয়ে পুলিশকে বলেন, “এটা আমার বুথ। এখানে আপনারা কেন এসেছেন। কেউ কোনও দিন এই বুথে আসে না।” এখানেই থামেননি শাসক দলের প্রাক্তন বিধায়ক। আঙুল উঁচিয়ে বলতে থাকেন, “এই বুথ আমার। আমি তৈরি করেছি । এখানে বিজেপি তেরোটা ভট পায়। চলে যান......চলে যাকন এখান থেকে।” পুলিশ তাঁকে বলার চেষ্টা করে, অভিযোগ পেয়েই তাঁরা সেখানে এসেছেন। কিন্তু কোনও কথা শুনতে রাজি নন মাহমুদা। জানিয়ে দেন, “কুমারগঞ্জ পুলিশ সব জানে। কেউ কখনও আসেনি।”
যদিও মাহমুদা নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “১৭০ নম্বর বুথে সব দলের এজেন্ট রয়েছেন। বিজেপি ভোট বানচাল করতেই এ সব মনগড়া অভিযোগ করছে। একদম শান্তিপূর্ন ভোট হচ্ছে। কোনও সমস্যা নেই।”
বিজেপি-র এক নেতা বলেন, “এই যদি প্রাক্তন বিধায়কের দাপট হয়, তাহলে বর্তমানরা কেমন সেটা সহজেই ঠাওর করা যাচ্ছে।” পর্যবেক্ষকদের মতে, পুলিশ বা কেন্দ্রীয়বাহিনীকে শাসানো শাসক দলের নতুন কোনও ঘটনা নয়। কোচবিহারের জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেও দেখা গিয়েছিল বিএসএফ জওয়াকে শাসাতে। এ বার কুমারগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক।