দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে বিরলতম ঘটনা ঘটে গেল বাঁকুড়া জেলায়। কোতলপুর ব্লকের বাসুবাটি গ্রামে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে পথসভা করছিল সিপিএম। আর সেই সভায় গিয়ে বক্তৃতা দিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি!
সম্প্রতি এমন ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার পথসভা করছিল সিপিএম। আচমকা সেই সভায় উপস্থিত হন তৃণমূলের কোতলপুরের ব্লক সভাপতি প্রবীর গরাই। তারপর মাইক হাতে নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন। প্রবীরবাবুর সোজাসাপটা যুক্তি, “সিপিএমও এনআরসির বিরোধিতা করছে, আমরাও করছি। এতে অসুবিধা কোথায়!” তিনি আরও বলেন, “সিপিএম এখন দিকভ্রষ্ট সৈনিক। ওদের আর হার্মাদি করার ক্ষমতা নেই। শুধু এনআরসি বিরোধী নয়, কেন্দ্রের সমস্ত জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াইয়ের ডাক দিতেই আমি গিয়েছিলাম।”
যদিও সিপিএম বিষয়টা অস্বীকার করেছে। কোতলপুরের সিপিএম নেতা তথা বাঁকুড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তাপস চক্রবর্তী ফোনে বলেন, “প্রবীরবাবু এসেছিলেন। কিন্তু আমাদের সভা যখন হয়ে গিয়ে লোকজন চলে গিয়েছে, তখন উনি একাই বক্তৃতা দিতে শুরু করেন।”
নয়া নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে সারা দেশে সমস্ত অবিজেপি শক্তিকে এক হওয়ার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠি লিখেছেন একাধিক অবিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও দলের নেতাদের। গতকাল আবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়ন চিঠি লিখে লিখেছেন মমতাকে। তাতে তিনি সময়ের দাবি মেনে সবাইকে এক হওয়ার কথা বলেছেন। একইসঙ্গে বলেছেন, বাংলাতেও যেন কেরল বিধানসভার মতো নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব পাশ করা হয়।
কিন্তু দুই মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি চালাচালির মাঝেই সিপিএম-তৃণমূল ‘এক’ হয়ে গিয়েছে কোতলপুরে। যা দেখে অনেকেই বলছেন, এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, রাজনীতিতে সবই অনিত্য। আজ থেকে ১০ বছর আগে কে ভেবেছিল, বিমান বসু, সোমেন মিত্র পাশাপাশি মিছিলে হাঁটবেন। কেই বা বলতে পারে আজ থেকে ছ’মাস বাদে সূর্য মিশ্র, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশাপাশি হাঁটবেন না।