দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: কাঁচড়াপাড়ায় দুই বিজেপি কর্মীকে মারধর ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। আহত দুই বিজেপি কর্মীর নাম আনন্দ বেশরা ও অভিজিৎ বিশ্বাস। যদিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল জানিয়েছে, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কাঁচড়াপাড়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন বিজেপি কর্মী আনন্দ বেশরা। গতকাল লকডাউন ছিল। তাই রাস্তাঘাট ছিল শুনশান। আনন্দ জানিয়েছেন, আর এক বিজেপি কর্মী অভিজিৎ বিশ্বাসের মোটর সাইকেলে করে তিনি ওষুধ কিনতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়েই তাঁদের উপর হামলা চালায় তৃণমূলের স্থানীয় লোকজন। বীজপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পেশায় স্কুল শিক্ষক আনন্দ বেশরা। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান তথা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বাড়ি কাঁচড়াপাড়াতে। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কাঁচপাড়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত লোকসভা ভোটের পর তো প্রায় দিনই সংঘাতের ঘটনা ঘটত ওই এলাকায়। যদিও মাঝে বেশ কিছু দিন শান্তই ছিল বীজপুর বিধানসভা এলাকা। বৃহস্পতিবার ফের একবার গণ্ডগোলের ঘটনা ঘটল কাঁচড়াপাড়ায়।
মুকুলবাবুর হাত ধরেই কাঁচড়াপাড়া পুরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু কাঁচড়াপাড়া কেন লোকসভা ভোটের পর থেকে একে একে ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া, নৈহাটি, হালিশহর পুরসভার দখল নিয়েছিল বিজেপি। ঠিক যে কায়দায় ষোল সালে বিধানসভা ভোটের পর ঝালদা, বেলডাঙার মতো পুরসভায় একটা আসনে না জিতেও দখল নিয়েছিল তৃণমূল। সে ভাবেই রাতারাতি উত্তর চব্বিশ পরগনা ও নদিয়ার এই পুরসভাগুলোর বহু কাউন্সিলর বিজেপি-তে যোগ দেন। কিন্তু তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিজেপিতে যাওয়া কাউন্সিলররা ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। তারপর অবশ্য আর তাঁদের নিয়ে টানাটানি হয়নি।