
শেষ আপডেট: 29 July 2019 08:24
ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামে আসেন বনদফতরের কর্মীরা। তাঁদের প্রাথমিক অনুমান এখানে কোনও হায়না বা নেকড়ের দল হানা দিয়েছিল। তবে বাঘের হানা দেওয়ার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বনকর্মীরা। তবে হায়না, নেকড়ে কিংবা বাঘ------যাই হোক না কেন, ইতিমধ্যেই ওই পশুকে ধরতে এলাকায় খাঁচা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাগল আর ভেড়া। বন দফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন, গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলগুলিতে বসানো হচ্ছে এই খাঁচাগুলি। খড়গপুর বন বিভাগের ডিএফও অরুণ মুখোপাধ্যাযয়ের কথায়, "পায়ের ছাপ দেখে মনে হচ্ছে জন্তুটি নেকড়ে বা হায়না। একাধিক পায়ের ছাপ থাকার জন্য নেকড়ে বা হায়নার একটি দল হামলা চালিয়েছে বলে অনুমান। তবে আসলে হামলাকারী জন্তুটি ঠিক কী, তা নিশ্চিত ভাবে জানতে ফাঁদ পাতা হয়েছে।"
২০১৮ সালের মার্চ মাসে বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল লালগড়ে। প্রায়ই গ্রামের গরু-ছাগল জঙ্গলে চরতে গেলে আর ফিরতো না। বন দফতরের কর্মীরা প্রাথমিক ভাবে ভেবেছিলেন নেকড়ে বা হায়নার দল এই গরু-ছাগলগুলোকে খেয়ে ফেলেছে। পরে নিশ্চিত হতে বন দফতর জঙ্গলে বসায় ট্র্যাফ ক্যামেরা। সেখানেই ধরা পড়ে বাঘের ছবি।
ছবি ধরা পড়তেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শুরু হয় বাঘ ধরার প্রস্তুতি। জঙ্গলে ছাগলের টোপ দিয়ে বসানো হয় খাঁচা। পরে অবশ্য বাঘের রুচি দেখেই পরিবর্তন করা টোপ। ছাগলের বদলে খাঁচায় রাখা হয় শুয়োর। মাস তিনেকে পরে আদিবাসীদের শিকার উৎসব চলাকালীন বাগুয়ার জঙ্গলে শিকারিদের হাতে মৃত্যু হয় বাঘটির। পরে জানা যায়, হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উড়িষ্যার শিমলিপাল অভয়ারণ্য থেকে লালগড়ের জঙ্গলে এসেছিল বাঘটি। তাই আবারও যে এমন কোনও বাঘের আগমন ঘটেনি, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বনদফতরের কর্মীরা।
ঝাড়গ্রামের জঙ্গলগুলিতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নেকড়ে ও হায়নার সংখ্যা। বেশ কিছুদিন আগে নেকড়ের হানায় গুরুতর ভাবে জখম হয় দুই আদিবাসী যুবক। পরে একজনের মৃত্যুও হয়। তার কিছুদিন পরেই ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া গ্রামগুলিতে একদিনেই নেকড়ের হামলায় গুরুতরভাবে জখম হন ১০জন গ্রামবাসী। তাই বনদফতরের অনুমান এই ঘটনা হায়না বা নেকড়ের দলই ঘটিয়েছে। তবে বাঘের হানার সম্ভাবনাও তাঁরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।