দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা থেকে গ্রামবাসীদের ‘বাঁচাতে’ নিজেদের দিন কাটছে আতঙ্কে। বাঁকুড়ার সারেঙ্গায় ভিন রাজ্য থেকে ফেরা তিন শ্রমিককে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে দায় সেরেছে প্রশাসন – অভিযোগ তেমনই। একটা ঘরে কোনওক্রমে মাথা গুঁজে কাটাতে হয় যেসব পরিবারকে তাঁরা কী ভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন? গ্রামের লোকের পরামর্শে মাঠে তাঁবু করা হয়েছে। এখন সেখানেই তিন শ্রমিকের রাত কাটছে সাপের ভয়ে।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা লকডাউনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন অসংখ্য শ্রমিক। সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁদের ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে। তবে সবার কপালে এখনও সেই সুযোগ জোটেনি। অনেক শ্রমিকই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাঁটের কড়ি ফেলে বাড়ি ফিরছেন। নিজেদের জমানো টাকা খরচ করে বাঁকুড়ার সারেঙ্গার চিংড়া গ্রামের এমনই তিন যুবক চেন্নাই থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফিরেও যে তাঁরা খুব নিশ্চিন্ত আর নিরাপদে আছেন এমনটা নয়। প্রশাসন তাঁদের প্রত্যেককে আগামী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়ে দায় সেরেছে বলে অভিযোগ।
তাঁদের বাড়িতে আলাদা ভাবে থাকার জায়গা নেই। ফলে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসাবে গ্রামের মানুষ তাঁদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন তাঁবু। মাঠের মাঝে একটি সেচ ক্যানালের পাশে সেই তাঁবুই এখন তাঁদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। এখন প্রায় প্রতিদিন বিকেলে কালবৈশাখীর তাণ্ডব চলছে। তাছাড়া খালের পাশে মাঠেঘাটে সাপের উপদ্রব তো রয়েইছে। অন্য কোনও উপায় না পেয়ে ওই অস্থায়ী তাঁবুতেই এখন দিন কাটছে চিংড়া গ্রামে ফিরে আসা তিন শ্রমিকের।
গ্রামবাসী সন্দীপ দে বলেন, “গ্রামের সকলের সুরক্ষার কথা ভেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে ওঁদের এখন তাঁবুতে থাকতে হচ্ছে। ওঁদের সমস্যার কথা বুঝতে পারছি। তবে কিছু করার নেই। প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে বারবার দরবার করেও কোনও লাভ হয়নি। আমরা গ্রামের সবাই মিলে এই অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করেছি।”
চেন্নাই থেকে আসা শ্রমিক প্রশান্ত নন্দীর কথায়, “লক ডাউনের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছিলাম। অবশেষে মাথা পিছু প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে আমরা তিন জন বাড়ি ফিরতে পেরেছি। এখানে আসার পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে আলাদা থাকার মতো জায়গা নেই। তাই এই মাঠের মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। করোনার হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণটা না যায় – এই দুশ্চিন্তায় এখন দিন কাটছে।” বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গ্রামবাসী এবং ভিন রাজ্য থেকে ফেরা ওই তিন শ্রমিকের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি জানা ছিল না। এনিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।”