দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে কাজ নেই। রোজকার করা টাকাও শেষ। দু’বেলা ঠিকমতো জুটছিল না খাবার। আর তাই সাইকেলে করেই উত্তরপ্রদেশ থেকে মালদার উদ্দেশে পাড়ি দেন তিন শ্রমিক। সাত দিন ধরে টানা সাইকেল চালিয়ে ৮০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শনিবার মালদায় প্রবেশ করেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে তাঁদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, মালদা জেলার কালিয়াচকের বাসিন্দা জাবিদ বিশ্বাস, শেখ আহমেদ ও মহম্মদ এক্রামুল উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে বাড়ি বাড়ি সাইকেলে করে কাপড় ফেরি করার কাজ করতেন। কিন্তু লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েন তাঁরা।
ফেরিওয়ালা জাবিদ বিশ্বাস জানিয়েছেন, “উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে আমরা গ্রামে গ্রামে সাইকেলে করে কাপড়ের ফেরি করতাম। আয় ভালই ছিল। করোনার জেরে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ি। যা আয় করেছিলাম সেই টাকা শেষ হয়ে যায়। টাকা না থাকায় খাবার কিনতে পারতাম না। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এক বেলা খাবার জুটলে দুবেলা অভুক্ত থাকতে হত। তাই বাধ্য হয়েই সাইকেল নিয়েই বাড়ি উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ি।”
জানা গিয়েছে, গত সোমবার উত্তরপ্রদেশ থেকে রওনা দেন তাঁরা। সঙ্গে করে মুড়ি, জল আর বিস্কুট নিয়েছিলেন। তাই খেয়েই ছ’দিন কাটিয়েছেন। রাস্তার ধারের সব হোটেল বন্ধ থাকায় ভাত জোটেনি। পথে প্রায় সব জায়গাতেই তাঁদের নথি দেখে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মালদায় ঢোকার পরে চাঁচল পুলিশ তাঁদের আটকায়। সবকিছু জানতে পেরে তাঁদের চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই আপাতত ১৪ দিন থাকতে হবে তাঁদের।
চাঁচল ১ নম্বর ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কালিয়াচক ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই তিনজনের সব নথি পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে তাঁদের থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে চাঁচল ১ নম্বর ব্লক প্রশাসন।