দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: দুর্গাপুরে চোরদের কবল থেকে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার উদ্ধার হল এলাকাবাসীর তৎপরতায়। যদিও দুষ্কৃতীদের ধরা এখনও সম্ভব হয়নি। সোমবার মধ্যরাতে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে ট্রান্সফর্মার খুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। এলাকার লোকজনের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার বিওজিএল টাউনশিপ এলাকায় সোমবার গভীর রাতের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার জেরে পুরো টাউনশিপের জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাতে টাউনশিপের তিনশোর বেশি পরিবার সমস্যায় পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রান্সফর্মার চুরি করার জন্য ব্যবহার হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার করেছে।
এক আবাসিক জানান, সোমবার রাত বারোটা নাগাদ হঠাৎ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, “প্রথমে আমরাই স্থানীয় বিদ্যুতের অফিসে খবর দিই। তারপরে টাউনশিপের দুর্গাপুর পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সাব-স্টেশনে এসে দেখি আমাদের দেখে অন্তত দশ জন লোক সামনের জঙ্গল দিয়ে পালাচ্ছে। সামনে গিয়ে দেখি ট্রান্সফর্মার খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ওটা ওরা নিতে পারেনি। যদি সময় মতো আমরা ওখানে না পৌঁছতে পারতাম তা হলে দুষ্কৃতীরা বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার নিয়ে পালিয়ে যেত।” এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ।
এর আগেও দুর্গাপুরে ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। দুষ্কৃতীদের জেরা করে তখন পুলিশ জেনেছিল, একটি ট্রান্সফর্মারে যে পরিমাণ লোহা, তামা ও অন্য ধাতু থাকে তা আলাদা করে বিভিন্ন কারখানায় চোরেরা বিক্রি করে। ট্রান্সফর্মারের ভিতরে যে তেল থাকে সেই তেলেরও চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে একটি ট্রান্সফর্মার বিক্রি করে তিরিশ হাজার টাকা মতো পাওয়া যায়। চোরেদের সঙ্গে অনেক অসৎ কারখানা মালিকের যোগসাজস রয়েছে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে একাধিক ঘটনায়। অনেক সময় নতুন কারখানা খোলার সময় কম দামে ধাতু পাওয়ার জন্য চোরেদের সঙ্গে কারখানার মালিকরা যোগাযোগ করে বলেও অভিযোগ শোনা যায়।
এখন দুর্গাপুরে বেলা একটার পর থেকে রোজ লকডাউন চলছে। লোকে বাড়িতেই থাকছেন। বেড়াতে যাওয়া পুরো বন্ধ। এই অবস্থায় চোরেরা আর গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতে যেতে তেমন সাহস করছে না। তাই তারা রাস্তার উপরে থাকা দামি জিনিসের দিকে নজর দিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি দুর্গাপুরে ডাকাতিও হয়েছে এক ডাক্তারের বাড়িতে।