দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বালুরঘাট শহরে দুঃসাহসিক চুরি। শুক্রবার শেষ রাতে শহরের চকভবানি এলাকার আদর্শ স্কুল পাড়ায় জানলার গ্রিল ভেঙে ঢুকে এক স্বাস্থ্যকর্মীর ঘরে চুরি হয়। বাধা দিতে গেলে ছুরির ঘায়ে আহত হন ওই স্বাস্থ্যকর্মী। একই এলাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী।
ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ডাইনিং রুমের জালনার গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢোকে চোর। এর পরে দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢুকে সে সর্বস্ব চুরি করে নেয়। তখন ঘুম ভেঙে যায় ওই স্বাস্থ্যকর্মীর। তিনি তখন তাঁর বন্ধুকে ফোন করেন। বাড়ির মালিককেও ফোন করেন। তখন চোর বুঝতে পেরে যায় যে বাড়িল লোক জেগে উঠেছে। তখন ওই আততায়ী ছুরি চালিয়ে দেয়। তাতে আহত হন স্বাস্থ্যকর্মী।
এলাকার বাসিন্দা বিমান দাস বলেন, “হয়তো ওই চোর আগে থেকেই বাড়ির মধ্যে ঢুকেছিল। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই মহিলা টের পেয়ে ফোন করতেই সে তাঁকে ছুরি দিয়ে মেরে দরজা ভেঙে পালায়।”
ওই স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়ি হুগলির আরামবাগে। মাসখানেক আগে ওই মহিলা বালুরঘাটের স্বাস্থ্য দফতরে কাজে নিযুক্ত হন। বালুরঘাট আদর্শ স্কুল পাড়ায় একাই ওই ঘরে ভাড়া থাকতেন তিনি। চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত ওই মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী নিজের নাম জানাতেও অনিচ্ছুক। তবে তিনি বালুরঘাট থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ পেয়ে বালুরঘাট আদর্শ স্কুল পাড়ার ওই ভাড়াটিয়া মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর ঘরে চুরির তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। ডিএসপি সদর ধীমান মিত্রের নেতৃত্বে তদন্তে নামে বিশাল পুলিশবাহিনী। তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।
বিমান দাস বলেন, “আমার বাড়ির বাইরে সিসি ক্যামেরা লগানো আছে। পুলিশ পেনড্রাইভে করে সেই ফুটেজ নিয়ে গেছে। হয়তো তদন্তের কাজে সুবিধা হবে।” ডিএসপি সদর ধীমান মিত্র বলেন, “তদন্ত চালাচ্ছি। আশা করি সমাধান করতে হবে।”
করোনার জেরে দেশ জুড়ে লকডাউন চালু হওয়ার পরে অপরাধের গ্রাফ আচমকাই নিম্নমুখী হয়ে যায়। তবে ধীরে ধীরে দেশ জুড়ে আনলক পর্ব চালু হওয়ার পরে আবার অপরাধ বাড়তে শুরু করেছে। বহু জায়গা থেকেই অপরাধের অভিযোগ থানায় আসতে শুরু করেছে। নতুন করে লকডাউন চালু হওয়ার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি লকডাউন পালন হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হচ্ছে।