দ্য ওয়াল ব্যুরো: রক্তের অভাবে থ্যালাসেমিয়ায় ভোগা এক তরুণীর মৃত্যু হল হাওড়ার উলুবেড়িয়ায়। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সময় মতো রক্ত জোগাড় করা সম্ভব হয়নি তাঁর পরিবারের পক্ষে। করোনা সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। মূলত সেই কারণেই এখন ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। তার জেরেই মৃত্যু হল তরুণীর।
উলুবেড়িয়ার বারবেড়িয়া মধ্যপাড়ার বছর সতেরোর নিশা ডালের থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়েছে বছর তিনেক আগে। সম্প্রতি প্রতি মাসে তাঁকে রক্ত দেওয়ার দরকার হচ্ছিল। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে রক্ত নেয় নিশা। নিয়ম মতো এপ্রিল মাসে আবার রক্ত নেওয়ার কথা ছিল। নিশার বাবা নিমাই ডাল পেশায় গাড়ি চালক। লকডাউনে তিনি কলকাতায় আটকে পড়েন। তাই মেয়েকে সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত দেওয়াতে পারেননি।
নিমাই ডালের এক মেয়ে, দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। নিশা বড়। থ্যালাসেমিয়ার জন্য নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কুল ছেড়ে দেয়। বুধবার বিকালে নিশার হঠাৎ শরীর খারাপ হয়। খিঁচুনি শুরু হয়। নিশার মা রূপালী ডাল তাকে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান তখুনি রক্ত দিতে হবে। রূপালী ডাল জানিয়েছেন উলুবেড়িয়া ব্লাড ব্যাঙ্কে গেলে তাঁকে বলা হয় রক্ত নেই। রক্তদাতা জোগাড় করতে হবে। তড়িঘড়ি রক্তদাতা জোগাড় করতে বেরিয়ে পড়েন রূপালীর প্রতিবেশীরা। রাত আটটা নাগাদ মৃত্যু হয় নিশার। নিমাই ডাল বলেন, “লকডাউনের জন্য আটকে পড়েছিলাম কলকাতায়। বাড়ি ফিরতে পারিনি। সঠিক সময়ে রক্ত দিতে পারলাম না বলে মেয়ের মৃত্যু হল।”
উলুবেড়িয়া ব্লাড ব্যাঙ্কে ওই দিন ও-পজিটিভ গ্রুপের রক্ত মজুত ছিল না। হাসপাতালের সুপার সুদীপরঞ্জন কাঁড়ার বলেন, “বিভিন্ন কারণে রক্তদান শিবির বন্ধ আছে। তাই রক্তের জোগান এখন কম। সব সময় সব গ্রুপের রক্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকছে না কিন্তু তরুণীর পরিবারের লোকজন যদি খবরটা আমার কাছ পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন তাহলে আমি অন্যত্র চেষ্টা করে দেখতাম।”
উলুবেড়িয়া পাঁচলা বাউড়িয়া ও সাঁকরাইল এলাকার বেশ কয়েক জন যুবক লকডাউনে রক্তের সঙ্কট মেটাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছেন। কারও রক্তের প্রয়োজন হলে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন রক্ত দিতে। এঁদেরই একজন সদস্য বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময়ে ফোনে খবর পেয়ে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে রক্ত দিয়ে আসছি। উলুবেড়িয়া হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক যদি তাদের মজুত রক্তের তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করে তা হলে জানা যায় ব্লাড ব্যাঙ্কে কোন গ্রুপের রক্তের অভাব আছে। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালে গিয়ে উৎসাহী যুবকরা রক্তের জোগান দিতে পারে। এ জন্য প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে।”