
শেষ আপডেট: 20 June 2020 11:49
সাগরদিঘির ঘাটে এখন ঘুরছে নতুন যুগল।[/caption]
এই দিঘিতে নিয়মিত আসেন কোচবিহার সদরের মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সকলে মিলে আরেকটি রাজহাঁস খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। হাঁসের দেখা না পেলেও শেষে ছ’টি ডিম তাঁরা দেখতে পান। তখন বুঝতে পারেন রাজহংসীর কী পরিণতি হয়েছে। এসডিওর উদ্যোগে তুফানগঞ্জের পশুপালন দফতরে সেই ডিমগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সমস্যা হয় সেখানে। যন্ত্র বিকল যাওয়ায় সেই ডিম ফোটানো সম্ভব হয়নি।
লকডাউনের সময় প্রাতর্ভ্রমণকারীদের সংখ্যা কম ছিল। তার উপরে সঙ্গী হারিয়ে রাজহাঁসটি খুব মনমরা হয়ে ছিল। তার স্বতঃস্ফূর্ত ভাব মিলিয়ে গিয়েছিল। তার তীব্র ক্রেংকার আর শুনতে পাচ্ছিলেন না দিঘির ধারে বেড়াতে আসা লোকজন। সঙ্গীকে হারিয়ে রাজহাঁসটি ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল।
ওই অবস্থায় বিরহী যক্ষীর মতো রাজহাঁসটিকে দেখে কষ্ট পাচ্ছিলেন দিঘির ধারে নিয়মিত ভ্রমণকারীরা। আলোচনা করে তাঁরা চাঁদা তুলে একটি রাজহংসী কিনে আনেন। প্রথম দিকে নতুন সঙ্গীকে ঠিক মেনে নিতে পারছিল না বিরহী রাজহাঁসটি। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের দূরত্ব ঘুচেছে। এখন তারা ভাব জমিয়ে ফেলেছে। ভ্রমণকারীরাও তাদের জন্য আবার খাবার আনা শুরু করেছেন নতুন করে। মহকুমাশাসক বলেন, “দিন কয়েক হল দু’টিতে বেশ মিশে গেছে। সকলেই নজরে রাখছি। এবার ডিম দিলে নজরদারি বাড়াতে হবে।” ওই দিঘির জন্য আরও কয়েকটি রাজহাঁস আনার কথা ভেবেছেন তিনি। সাগরদিঘিতে রাজহাঁস ঘুরে বেড়াতে দেখলে সেই দৃশ্য বেশ মনোরম হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। একই কথা বলছেন এই উদ্যানে বেড়াতে আসা রাজীব দেবনাথ, তুলিকা সরখেল, পূজা চক্রবর্তী প্রমুখ।