দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেহালা থেকে তিন বাংলাদেশি জঙ্গিকে গ্রেফতারের পরে এই চক্রের একের পর এক পান্ডেকে ধরল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত থেকে এই জঙ্গিকে পাকড়াও করেছে এসটিএফ। ধৃতের নাম লালু সেন ওরফে রাহুল সেন ওরফে রাহুল কুমার (৩৮)। তদন্তকারীদের দাবি, এই লালু ওরফে রাহুল জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর লিঙ্কম্যান হিসেবে কাজ করে। নাজিউর-সহ একাধিক বাংলাদেশি জঙ্গির সঙ্গেও এর যোগসূত্র আছে বলে দাবি পুলিশের। সূত্রের খবর, আজই তাকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হবে।
কলকাতা পুলিশের এসটিএফ জানাচ্ছে, বাংলাদেশি জঙ্গিদের অর্থ সাহায্য করত এই লালু সেন। জানা গেছে, ‘হুন্ডি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে জেএমবি জঙ্গিদের টাকাপয়সার জোগান দিত সে। হুন্ডি হল একধরনের হাওয়ালা ব্যবস্থা যার সাহায্যে বিদেশ থেকে টাকার জোগান আসে। এই লালু ওরফে রাহুল এই টাকাপয়সার লেনদেনে সক্রিয় ভূমিকা নিত। জেএমবি সংগঠনের হ্যান্ডলার হিসেবেই কাজ করত সে, দাবি তদন্তকারীদের।
ধৃতের কাছ থেকে একটি আইপড, দুটি মোবাইল, দুটি ল্যাপটপ ও কিছু পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এইসব পরিচয়পত্রই ভুয়ো। লালু ভারতীয় কিনা সে খোঁজও করছে পুলিশ। জানা গেছে, জঙ্গিদের জন্য ভুয়ো পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, প্যান কার্ড ইত্যাদি বানাত সে।
বাংলাদেশি জঙ্গিরা এ রাজ্যে ঢুকলে কোথায় আত্মগোপন করে থাকবে, কীভাবে টাকাপয়সা পাবে ইত্যাদির দেখভালের দায়িত্ব ছিল লালুর ওপরেই।
প্রসঙ্গত চারদিন আগেই কলকাতা পুলিশের এসটিএফের জয়েন্ট সিপি ভি সলোমন নেশাকুমার ও এসটিএফের ডিসি অপরাজিতা রাইয়ের নেতৃত্বে বেহালা থেকে তিন বাংলাদেশি জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত তিনজনের সঙ্গেই জেএমবি-র শীর্ষ নেতাদের যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃতদের নাম, নাজিউর রহমান (২২), নিখিলকান্ত ও রবিউল ইসলামি (২২)। এই তিনজনই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা। এই ধৃতদের কাছ থেকে যে ডায়রি পাওয়া গেছে তাতে জেএমবি নেতাদের ফোন নম্বর লেখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেহাদ সম্পর্কিত নানা বইও পাওয়া গেছে ধৃতদের কাছ থেকে। এমনকি ধৃতদের সঙ্গে আল কায়দার যোগসূত্র আছে বলেও অনুমান করেছে তদন্তকারীরা।
এদের জেরা করেই জানা গেছে, শুধু এই তিন জনই নয়, জঙ্গিদের জাল পশ্চিমবঙ্গে আরও বেশ খানিকটা বিস্তৃত হয়েছে। আরও অন্তত ১৫-১৬জন জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতী পূবের সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে ভারতে। প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে, নাকি অন্য রাজেও ছড়িয়ে পড়েছে তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
এসটিএফ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, তিন বাংলাদেশি জঙ্গি জেএমবি-র বড় পান্ডা তাসমিনের নির্দেশেই নাকি ভারতে এসেছিল। তাদের আরও এক শাগরেদ শাকিল ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে দিয়েছিল। এর পরেই এসটিএফ পাত্তা লাগায়, এই সংগঠনের কোনও লিঙ্কম্যান এ রাজ্যে থেকেই জঙ্গিদের হয়ে কাজ করছে। জঙ্গিরা কোথায় গা ঢাকা দেবে, পরিকল্পনা কীভাবে এগোবে ইত্যাদি ঠিক করতে কোনও হ্যান্ডলার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই খোঁজ করতে গিয়েই লালু সেনের হদিশ পায় পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১,১২১এ,১২২,১২৩,১২৪এ,১২৫,১২০বি ও ১৪এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।