দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল রাজীব কুমার-সিবিআই মামলার শুনানি। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে চিটফান্ড মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করে দেশের শীর্ষ আদালতে পিটিশন দাখিল করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সোমবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিবিআইয়ের তরফে বলা হয়, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা অন্য কোর্টে অন্য মামলায় ব্যস্ত আছেন। তাই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হোক।
প্রধান বিচারপতি এসএস বোবদের আদালতে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এদিন সিবিআইয়ের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ২৯ নভেম্বর হবে এই মামলার শুনানি।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষে চার দিনের রুদ্ধদ্বার শুনানি শেষ হওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি শহীদুল্লাহ মুন্সি এবং বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্ত রায়দান স্থগিত রাখেন। ১ অক্টোবর রায় দিতে গিয়ে আদালত বলে, রাজীব কুমার তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তাঁকে এই মুহূর্তে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে বলে আদালত মনে করছে না। আদালত বলেছিল, রাজীব কুমারকে যে কোনও তদন্তের জন্য তদন্ত এজেন্সি ডাকতে পারে। ডাকলে রাজীবকে যেতেও হবে। কিন্তু সিবিআইকে নোটিস পাঠাতে হবে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে।
হাইকোর্টই রাজীব কুমারের উপর থেকে আইনি রক্ষাকবচ সরিয়ে নিয়েছিল। তারপর টানা ১৭ দিন ধরে আদালতে আদালতে ঘোরেন রাজীব। প্রথমে বারাসত কোর্ট। সেখানে এক্তিয়ারের প্রশ্ন ওঠায় রাজীবের আবেদন গৃহীতই হয়নি। তারপর বারাসত জজ কোর্ট। জেলা আদালত বলে, সারদার মূল মামলা যেহেতু দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়, তাই উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা আদালত এর শুনানি করতে পারে না। তাঁকে আবেদন করতে হলে, তা করতে হবে আলিপুর আদালতে। আলিপুর আদালতে যান বর্তমান ডিআইজি সিআইডি। কিন্তু বড় ধাক্কা খেতে হয় চিটফান্ড তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলেরে প্রাক্তন প্রধানকে। আলিপুর আদালত রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
তারপর আলিপুর আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন রাজীবের আইনজীবীরা। এর মধ্যেই চলতে থাকে রাজীবের খোঁজে তল্লাশি। দিল্লি থেকে বিশেষ টিমকে কলকাতায় নিয়ে আসে সিবিআই। কিন্তু কলকাতা, কলকাতার উপকণ্ঠ এমনকি পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় হানা দিয়েও রাজীবের টিকি পায়নি কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। চিঠি দিয়ে ডিজি, স্বরাষ্ট্রসচিব, মুখ্যসচিবের থেকে সিবিআই জানতে চায় রাজীব কোথায়? তাঁর বর্তমান অবস্থান কী? কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। একের পর এক আদালতে ধাক্কা আর সিবিআইয়ের হন্যে হয়ে তল্লাশি– সব মিলিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিলেন এই দুঁদে আইপিএস। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর তাঁর স্বস্তি ফেরে। পাল্টা সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। এখন দেখার শুক্রবারের শুনানির পর এই মামলা কোন দিকে গড়ায়।