দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেখানে ঝড় হয়, সেখানে দেখছি বাঘেরও ভয়!
একে করোনার আতঙ্ক! উপরি সুপার সাইক্লোন আমফান। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, বেরিয়ে পড়তে পারেন দক্ষিণরায়!
সুপার সাইক্লোন আমফান আছড়ে পড়ার পর সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে বাঘ চলে আসতে পারে লোকালয়ে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে বাঘেদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে গোসাবায় কন্ট্রোল রুম খুলল বনদফতর।
আগামীকাল, বুধবার দুপুরে আছড়ে পড়ার কথা আমফানের। তারপর বাঘ যাতে লোকালয়ে না আসতে পারে তার নজরদারিতে তৎপর প্রশাসন। বন্যপ্রাণী বিভাগের প্রধান ওয়ার্ডেন রবিকান্ত সিনহা বলেছেন, ম্যানগ্রোভ অরণ্যে তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখার জন্য গোসাবায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। মূল কন্ট্রোল রুমটি হবে সল্টলেকে। সেখান থেকেই বাঘ-সহ বন্যপ্রাণীদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হবে। প্রয়োজন মতো সল্টলেক থেকে নির্দেশ যাবে গোসাবার কন্ট্রোল রুমে।
বনদফতরের এক অধিকর্তা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে বাঘ যদি গভীর জঙ্গল থেকে সংলগ্ন গ্রামে ঢুকে পড়ে তখনই র্যাপিড রেসপন্স টিম তাদের জঙ্গলে ফিরিয়ে দিতে পদক্ষেপ করবে।
সজনেখালি এবং ঝড়খালি এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে র্যাপিড রেসপন্স টিম। তাঁদের হাতে থাকবে ঘুমপাড়ানি গুলি ভরা বন্দুক। স্পিডবোটে করে নদী, খাড়িতে টহল দেবে ওই দল।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ঝড়ঝঞ্ঝার সময়ে ভয়ে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের দিকে চলে আসে বাঘ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী। এটা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা। রবিকান্ত সিনহা জানিয়েছেন, সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে ৯৬টি বাঘ রয়েছে সুন্দরবনে। যার মধ্যে ৭৩টি একেবারে গভীর জঙ্গলে। এবং বাকি ২৩টি বাঘ অপেক্ষাকৃত কম ঘন জঙ্গলে থাকে। পনেরো বছর আগে অবশ্য প্রায় সাড়়ে তিনশ বাঘ ছিল এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে। বন দফতরের এক অফিসারের কথায়, সুন্দরবনে বাঘ কমে গেছে, সেটা দুঃখের বিষয়। তবে এখন এই আমফানের সময়ে সাড়ে তিনশ-চারশ বাঘ থাকলে চিন্তায় রাতের ঘুম চলে যেত।
বনদফতরের এক আধিকারিক বলেছেন, গোসাবা, দয়াপুর, বালিদ্বীপ, সজনেখালি, পাখিরালার গ্রামবাসী এবং বিশেষত মৎস্যজীবীদের এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। যাতে বাঘ গ্রামে ঢোকার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সজাগ থাকেন। ইতিমধ্যেই গ্রামে গ্রামে মাইকে প্রচার করেছে প্রশাসন।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় সবচেয়ে বেশি আঘাত হানতে পারে আমফান। ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এলাকার দু'লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন যে, আয়লার থেকেও মারাত্মক অভিঘাত হতে পারে আমফানের। আয়লার সময়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবন। সেই আতঙ্কের মধ্যেই এবার ঝড়ের পর বাঘের হানার ভয়!