দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাইন দিয়ে তৃণমূলের দখলে থাকা পুরসভাগুলির নিজেদের দখলে নিয়েছিল বিজেপি। সেটা লোকসভা ভোটের পরে পরেই। কিন্তু যত সময় এগোয়, তত গেরুয়া কব্জা আলগা হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার পুরসভাগুলি থেকে। বনগাঁ থেকে হালিশহর, কাঁচরাপাড়া থেকে নৈহাটি—একের পর এক পুরসভা ফিরে পেতে শুরু করে শাসক দল। এ বার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন গারুলিয়া পুরসভা। সোমবার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া সুনীল সিং।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর গারুলিয়ার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। এ দিন তিনি পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দিয়েছেন। এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে সুনীল স্পষ্ট স্বীকার করে নিয়েছেন, তাঁর কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই তিনি পদত্যাগ করলেন।
সুনীল সিং শুধু চেয়ারম্যান ছিলেন না। তিনি নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়কও বটে। উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও মাস দুই আগে যোগ দেন বিজেপি-তে। লোকসভার আগে থেকেই জল্পনা চলছিল সুনীল বিজেপি-তে যোগ দেবেন। তাঁর শ্যালক অর্জুন সিং গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর সেই জল্পনা আরও বাড়ে। কিন্তু যাননি তিনি। অনেকের মতে, তৃনমূলের ভিতরে থেকেই বিজেপি-র হয়ে কাজ করেছেন সারা ভোটে।
গারুলিয়া পুরসভার মোট আসন সংখ্যা ২১। ২০১৫ সালে ভোটের পর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এই পুরসভার সমীকরণ ছিল এই রকম—তৃণমূল-২০ এবং বামফ্রন্ট-১। কিন্তু সুনীল বিজেপি-তে যেতেই আরও ৬জন কাউন্সিলর যোগ দেন পদ্মশিবিরে। ফলে দলবদলের পর সমীকরণ দাঁড়ায়—তৃণমূল-১৩, বিজেপি-৭ এবং বামফ্রন্ট-১।
খাতায় কলমে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও দাপটের জন্যই চেয়ারম্যান পদে থেকে গিয়েছিলেন সুনীল। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা দলের কাউন্সিলরদের দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধেই অনাস্থা আনেন। বনগাঁ দখলের দিনই খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, “পুজোর পর দেখবেন সব পুরসভায় আবার জোড়া ফুল ফুটেছে। ভ্যানিশ হয়ে যাবে পদ্মফুল।” দেখা গেল দেবীপক্ষ পড়তে না পড়তেই গারুলিয়ার দখল প্রায় সেরে ফেলল শাসকদল।
যে দিন তৃণমূল গারুলিয়ায় অনাস্থা আনল, সে দিন অর্জুন দলীয় কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন বীরভূমে।অনুব্রত মণ্ডলের জেলায় দাঁড়িয়ে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদের হুঙ্কার ছিল, “তৃণমূলের কাজই শুধু অনাস্থা আনা। নিশ্চিন্ত থাকুন বোর্ড গড়তে দেব না।” কিন্তু তা বিশেষ কাজে এল না। রণে ভঙ্গ দিলেন সুনীল। গারুলিয়ার বোর্ড সরকারি ভাবে তৃণমূলের হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।