দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন সুন্দরবন এলাকার একেবারে প্রান্তিক মানুষজন। কার্যত ভিক্ষা করে এলাকার কয়েক জন মানুষ টাকা সংগ্রহ করে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েত। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কুঁকড়েখালি নদী। পঞ্চায়েতে তেরোটা বুথ মিলিয়ে অন্তত তিরিশ হাজার মানুষ বসবাস করেন। গত একমাস ধরে এই অঞ্চলের বাসিন্দা শ্যামল মণ্ডল, দীপ্তি মণ্ডল ও শিক্ষক তুষার মণ্ডল উদ্যোগী হয়ে এলাকার লোকের দরজায় দরজায় গিয়ে কার্যত ‘ভিক্ষা’ করে প্রায় দু'লক্ষ টাকা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
সোমবার সকালে তাঁরা একটি চেক তুলে দেন হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও সৌভো ঘোষের হাতে। এদিন পারঘুমটি গ্রামের পার্শ্বশিক্ষিকা নমিতা মণ্ডল মিস্ত্রিও তাঁর এক মাসের বেতন অর্থাৎ দশ হাজার টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন।
সুন্দরবনের মানুষকে প্রতিনিয়ত বাঁচতে হয় বিপদের সঙ্গে লড়াই করে। এলাকার বড় অংশের মানুষের জীবিকা প্রাণ হাতে করে নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরা। দারিদ্র্য ও বাঘের সঙ্গে লড়াই করে তাঁদের বাঁচতে হয় প্রতিনিয়ত। সেই এলাকার মানুষের অল্প অল্প দানে জমা হয়েছে প্রায় দু’লক্ষ টাকা। তাঁরা দিয়েছেন করোনার মোকাবিলায়।
শ্যামল মণ্ডল বলেন, “আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে টাকা সংগ্রহ করে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তুলে দিয়েছি। তাঁর ডাকে সাড়া দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।” নমিতা মণ্ডল মিস্ত্রি বলেন, “আমাদের গ্রামে এখনও এই মহামারী আসেনি। আমাদের এখনও খাবারের দুরবস্থা নেই। যেসব এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন তাঁদের কথা ভেবেই আমি আমার এক মাসের বেতন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেছি।”