দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো শেষ হতেই বড়সড় সাফল্য পেল সুন্দরবন জেলার কোস্টাল থানার পুলিশ। সুন্দরবনের পূর্ব রাধানগর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে তারা। গ্রেফতারও করা হয়েছে একজন। মঙ্গলবার অর্থাৎ গতকাল রাতে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে অসংখ্য আগ্নেয়াস্ত্র। হাতেনাতে পাকড়াও হয়েছে এক ব্যক্তি।
মূলত এই পূর্ব রাধানগর এলাকা বারুইপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত। সেখানকার কোস্টাল থানার কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল যে পূর্ব রাধানগরের বাসিন্দা মুছাকালি মোল্লা নামের এক ব্যক্তি প্রচুর বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র মজুত করছে নিজের বাড়িতে। অস্ত্র পাচারের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। এই সূত্র ধরেই অভিযান চালায় পুলিশ। গতকাল রাতে সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশ আধিকারিক সুশোভন সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয় নির্দিষ্ট এলাকায়। এরপর মুছাকালির বাড়িতে অভিযান চালায় তারা।
তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে তারা। ৫টি বড় বন্দুক, ৩টি ওয়ান শাটার, ১টি ছ'ঘড়া রিভলভার-সহ মোট ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও ১২ বোরের ৩টি এবং ২টি ৮ এমএম লাইভ-সহ মোট ৬টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্থানীয় দুষ্কৃতীদেরকে বিক্রির জন্য এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র মজুত করছিল মুছাকালি মোল্লা। তবে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। কিন্তু পাচার করার সম্ভাবনা থাকলেও এইসব আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় পাঠানোর ছক কষেছিল মুছাকালি সে ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
ইতিমধ্যেই, মুছাকালি মোল্লা নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে রুজু হয়েছে মামলাও। এই অস্ত্র চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। কী কারণে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের বাড়িতে মজুত করেছিল এই ব্যক্তি সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশেপাশের গ্রামবাসীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে তারা। এছাড়াও মুছাকালি এখনও পর্যন্ত এলাকার কাউকে বা বাইরে কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করেছে কিনা সেটাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।