দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই সেদিন দেবযানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন মামলায় সিবিআই হাইকোর্টে জানিয়েছে, সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারা মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায়। ব্যাপারটা তখনও জানা যায়নি। তবে শনিবাসরীয় দুপুরে হঠাৎই একটি তিন পৃষ্ঠার চিঠির উদয় হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে সেটি ঘুরছে। সেই চিঠিটি নাকি ‘প্রিসনার্স পিটিশন’। অর্থাৎ বন্দির আবেদন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো সেই আবেদনে চিটফান্ড কাণ্ডে বন্দি সুদীপ্ত সেন লিখেছেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ৬ কোটি টাকা, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীকে ৯ কোটি টাকা, অধীররঞ্জন চৌধুরীকে ৬ কোটি টাকা এবং সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বিমান বসুকে ২ কোটি টাকা দিয়েছেন।
মুকুল রায়কেও 'বিপুল' টাকা দিয়েছেন বলে আবেদনে লিখেছেন সুদীপ্ত সেন। তিনি এও লিখেছেন, কত টাকা মুকুলবাবুকে দিয়েছেন তা মনে করতে পারছেন না।
ওই আবেদনের উপর ১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ লেখা রয়েছে। অর্থাৎ চিঠি লেখা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর। শুভেন্দু মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ২৭ নভেম্বর শুক্রবার। ১ ডিসেম্বর ছিল মঙ্গলবার। অর্থাৎ যে দিন রাতে উত্তর কলকাতার একটি বাড়িতে শুভেন্দুকে বোঝাতে সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোর গিয়েছিলেন, ঘটনাচক্রে চিঠিটি সেদিনই লেখা।
সোশাল মিডিয়ায় কত কাগজই এরকম ঘোরে। একবার চিটফান্ড কাণ্ড সংক্রান্ত এরকমই একটি চিঠি হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরেছিল। তাতে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের নাম জড়ানো হয়েছিল। দেখা যায়, সেটি আদ্যন্ত ভুয়ো একটি চিঠি।
যে হেতু ওই চিঠিটিতে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারিনটেন্ডেন্ট দেবাশিস চক্রবর্তীর সাক্ষর রয়েছে। তাই তাঁকে দ্য ওয়ালের তরফে এই চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “হ্যাঁ যতদূর মনে পড়ছে উনি একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এর বেশি আর কিছু বলতে পারব না”। তাঁকে বলা হয়, আমাদের কাছে যে চিঠির প্রতিলিপি রয়েছে, সেটা কি আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে একবার দেখে বলবেন? তিনি বলেন, “না, পাঠানোর দরকার নেই। এখানে নেট স্লো রয়েছে।”
এ ছাড়া চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। তবে দেখা যায়, আই প্যাকের প্রতিনিধিরা ওই চিঠির প্রতিলিপি পিডিএফ ফরম্যাটে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ করেছেন।
সারদা কাণ্ডে ২০১৩ সালে গ্রেফতার হয়েছেন সুদীপ্ত সেন। তার পর প্রায় সাত বছর কেটে গিয়েছে। এতোদিন পর ব্যাপারটা মনে পড়েছে শুনে অনেকেই আশ্চর্য হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপে একটা কাগজ এসেছে দেখছি। এতো ভারি মজার ব্যাপার”। তার পর দ্বিগুণ হেসে বলেন, “একসঙ্গে ৬ কোটি টাকা মুফতে পেলে কী কী করতে পারতাম তাই ভাবছি”। অধীরবাবু অবশ্য পরে জানিয়েছেন, "যে হেতু চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে। তাই ভাবছি ওনাকে চিঠি লিখে এর সত্যতা যাচাই করতে বলব"।
ওই প্রিসনার্স পিটিশন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোনই ধরেননি। অন্যদিকে সুজন চক্রবর্তী ফোন ধরেই হো হো করে হাসতে শুরু করেন। তিনি বলেন, “এদের মাথাটা একদম গেছে। কী করবে বুঝে পাচ্ছে না। সত্যি কথা বলতে কি এটা নিয়ে আমি কী প্রতিক্রিয়া দেব, সেটাও ভেবে পাচ্ছি না”। এ কথা বলে ফের হো হো করে হাসতে শুরু করেন সুজনবাবু।