দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার কোচবিহারে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন ‘জয় শ্রীরাম বলতে সমস্যা কোথায়। ভোটের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জয় শ্রীরাম বলবেন।’ শাহের সেই কটাক্ষের জবাব দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুবত মুখোপাধ্যায়। বললেন, মমতাও বাড়িতে জয় শ্রীরাম বলেন। কিন্তু স্লোগান দেন না।
অমিত শাহের মন্তব্যের জবাবে সুব্রত বলেন, “উনি জয় শ্রীরাম বলেন না তা তো নয়। কিন্তু বাড়িতে বলেন। যেখানে ঠাকুর আছে সেখানে বলেন। কিন্তু স্লোগান দিয়ে শ্রীরামকে নামিয়ে আনেন না। বক্তৃতার মঞ্চে নিয়ে আসেন না। এটাই তফাৎ।”
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় জয় শ্রীরাম বলা কি অপরাধ? এখানে যদি জয় শ্রীরাম বলা না যায়, তাহলে কি পাকিস্তানে গিয়ে বলব? জয় শ্রীরাম বললে মমতা দিদি নিজেকে অপমানিত মনে করেন। সারা দেশের লোক রামকে নিয়ে গর্ব করে। এখানে জয় শ্রীরাম বলব। ভোট শেষ হলে মমতাও জয় শ্রীরাম বলবেন।” তারই জবাব দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
জয় শ্রীরাম নিয়ে এই তরজা অবশ্য নতুন নয়। ব্যারাকপুরে রাস্তার ধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির বাইরে জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠা, কিংবা নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠানে জয় শ্রীরাম ধ্বনি, বারবার তার প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। ব্যারাকপুরে গাড়ি থেকে নেমে রীতিমতো তেড়ে গিয়েছেন। ভিক্টোরিয়ায় বক্তব্য না রেখেই মঞ্চ থেকে নেমে গিয়েছেন। একদিকে যখন তৃণমূল বলছে শ্রীরামের নামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বিজেপি, তখন গেরুয়া শিবিরের প্রশ্ন শ্রীরামের নামকে তৃণমূলের কেন এত ভয়। হলদিয়াতে এসে ‘রাম কার্ড’ খেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেই তরজা শোনা গেল এদিনও।
নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচার ঘিরে বারবার বহিরাগত তত্ত্ব তুলে এনেছে তৃণমূল। বাইরে থেকে নেতাদের নিয়ে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই কথা আরও একবার শোনা গিয়েছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের গলাতে। তিনি বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছি। ৫০ বছরে এই প্রথম দেখলাম বাইরের লোকেরা এসে পশ্চিমবঙ্গে ভোট করাচ্ছেন। পুরো দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন তাঁরা।”