দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান উত্তর সার্কেলের এক সাব ইন্সপেক্টরকে মারধরের ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়নি দেওয়ানদিঘি থানা। এসপিকে জানানোর পরও সক্রিয় হয়নি পুলিশ। অভিযোগ এমনই। বাধ্য হয়ে বর্ধমান সিজেএম আদালতে মামলা করেছেন ওই সাব ইন্সপেক্টর। কেস রুজু করে তদন্তের জন্য দেওয়ানদিঘি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম সুজিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
সাব-ইনসপেক্টরের আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি অফিসারকে অফিসে ঢুকে মারধর করা হয়েছে। কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশকে জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালত সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়া, মারধর করা, ভীতি প্রদর্শন করা প্রভৃতি ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দেওয়ানদিঘি থানার এক অফিসার বলেন, আদালতের নির্দেশ হাতে পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং তৃণমূল নেতার নাম জড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তরা অবশ্য মারধর এবং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক)স্বপনকুমার দত্ত বলেন, আদালতে মামলার বিষয়ে কিছু জানা নেই। তবে, ওই সাব-ইনসপেক্টর একটি অভিযোগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ জমা পড়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আদালতে বর্ধমান উত্তর সার্কেলের সাব-ইনসপেক্টর সৌমেন মণ্ডল জানিয়েছেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি দেওয়ানদিঘি থানার কামনাড়ায় অফিসে কাজ করছিলেন। সেই সময় কয়েকজন এসে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কাজে বাধা দেয়। তাদের মধ্যে একজন তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। তাঁকে গেট বন্ধ করে ঘণ্টাখানেক আটকে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর বর্ধমান-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি দেবনারায়ণ গুহ ও পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ লোকজন নিয়ে অফিসে আসেন। তাঁরা তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় তাঁকে। বিকাল ৪টে ১০ নাগাদ হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক)-কে জানান। ই-মেল করে অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) এবং জেলা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা দফতরের চেয়ারম্যানকে জানান। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা দফতরের চেয়ারম্যান অচিন্ত্য চক্রবর্তী বলেন, সাব-ইনসপেক্টরের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট মেলার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বলেন, "অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই সাব-ইন্সপেক্টর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন না। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। তাঁকে আদৌ শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়নি। সাব-ইন্সপেক্টর আদালতে মামলা করেছেন। আইনি পথেই তার মোকাবিলা করব।"