দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পরে ঘরে ফিরে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন রাজস্থানের কোটায় আটকে থাকা পড়ুয়ারা। সদ্য ঘরে ফিরেছেন তাঁরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের চিত্তরঞ্জন এলাকা থেকে কোটায় পড়তে যাওয়া সুদীপা বলেন, “লকডাউন শুরু হওয়ার পরে প্রথম দিকে কোটায় খাবারের মান বেশ ভালই ছিল। পরে ধীরে ধীরে সেই মান পড়তে শুরু করে। তাছাড়া অনেকে বাড়ি চলে যাওয়ার ফলে এলাকাও ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল। তখন আমরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করি।”
রাজ্য সরকার প্রথমে রাজি ছিল না। কিন্তু এনিয়ে সচেষ্ট হন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের অসহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বারবার রাজ্য সরকারের কাছে এনিয়ে দরবার করেন। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও পরে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেন। সেখান থেকে সাহায্যের আশ্বাস পেলে কথা বলেন রাজ্য সরকারের সঙ্গেও।
কিন্তু এসব সত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রথমে ‘না’ বলে দেয়। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাও সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, “যে সাড়ে তিন হাজার-চার হাজার বাংলার ছাত্রছাত্রী রাজস্থানের কোটায় আটকে পড়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এটা বিশাল বড় একটা কাজ। অনেক জটিলতা রয়েছে। এতটা রাস্তা এত জনকে আনা সম্ভব নয়। আমরা অনুরোধ করব, এতদিন কষ্ট করেছেন। আর ক’টা দিন কষ্ট করুন।” তিনি আরও জানিয়েছিলেন, “ওই ছাত্রছাত্রীদের আনতে অন্তত ৩০০টি বাস প্রয়োজন। এতটা রাস্তা সেই বাসগুলি যাবে এবং আসবে সেটা সম্ভব নয়। রাজস্থান থেকে বাংলায় ফিরতে কয়েকটা রাত হল্ট করাতে হবে। সেটাও এই পরিস্থিতিতে অসম্ভব।” এর পরেও অধীররঞ্জন চৌধুরী হাল ছাড়েননি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। তাতেই কাজ হয়।
গত ২৭ এপ্রিল সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানান। মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে জানিয়ে দেন, কোটায় আটকে থাকা বাংলার ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবে শিগগির। তিনি বিষয়টি নিজে দেখছেন বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আশ্বাস মতোই কাজ করে নবান্ন।
পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীরা এদিন রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও।