দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাইনাল ইয়ারের এক ছাত্রীকে জাত তুলে অসম্মান করার পাশাপাশি কলেজেরই এক শিক্ষিকাকে চড় মারার অভিযোগ উঠল নন্দলাল বিএড কলেজের অধ্যক্ষা কল্যাণী সাহুর বিরুদ্ধে। আজ ওই শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবারের এই ঘটনার জেরে আজ বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ চলছে কলেজে।
বিএড কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী গীতা মাহাতর মার্কশিট আটকে দিয়েছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের অভিযোগ, ওই ছাত্রীর কাছে টাকা পাওনা আছে। গীতা জানান তিনি যে পুরো টাকা মিটিয়েছেন তার প্রমাণ (রসিদ) তাঁর কাছেই আছে। বেশ কয়েক দিন ধরে ঘোরার পরে বুধবার তিনি কলেজের অধ্যক্ষা কল্যাণী সাহুর কাছে যান তাঁর মার্কশিট নিতে। গীতার অভিযোগ কোনও ভাবেই তাঁর কথা বুঝতে চাইছিলেন না অধ্যক্ষা। এমনকি তাঁর জাত তুলেও অপমান করার চেষ্টা করেন। ছাত্রীটিও বলতে থাকেন, তাঁর কাছে যখন প্রমাণ রয়েছে কোনও টাকা বকেয়া নেই তখন তিনি মার্কশিট নিয়েই ফিরবেন।
গীতার কথায়, “অধ্যক্ষা আমাকে বলেন তুমি এসসি (তফসিলি জাতি) তুমি এসব বুঝবে না। তারপরেই আমাকে ঠেলে দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে চান। তখন কলেজের শিক্ষিকা শান্তা মৌলিক এসে বলেন যে আমার সব টাকা মেটানো আছে। উনিই বলেন আমাকে মার্কশিট দিয়ে দিতে। তখন তাঁর গালে চড় মারেন অধ্যক্ষা।”
শিক্ষিকা শান্তা মৌলিক বলেন, “ওই ছাত্রীর সঙ্গে আগেও চরম দুর্ব্যবহার করেছেন অধ্যক্ষা। ওই ছাত্রীটি গরিব হওয়া সত্ত্বেও সব টাকা মিটিয়ে দিয়েছে। এরপরেও অধ্যক্ষা ওকে মার্কশিট দিতে চাইছিলেন না।”
শিক্ষিকাকে চড় মারার পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। সব শিক্ষক-শিক্ষিকা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। পুরো কলেজে এনিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভাটপাড়া থানা থেকে পুলিশ চলে আসে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই অধ্যক্ষাকে আটক করে। তবে এপ্রসঙ্গে কোনও কথা বলতে চাননি অধ্যক্ষা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরা দাবি করতে থাকেন যে অধ্যক্ষাকে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাঁকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। এদিন অধ্যক্ষাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলে পুলিশ।
কলেজে ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। অধ্যক্ষাকে গ্রেফতার করার পরেও বিক্ষোভ থামেনি। পড়ুয়ারা চান তাঁর দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক।