দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা বিধি নিয়ে আরও কড়া মনোভাব নিচ্ছে নবান্ন। শুক্রবারই জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য মুখ্য আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। শনিবার ফের কোভিড বিধি পর্যালোচনা নিয়ে বৈঠক হয়।
মুখ্যসচিবের কড়া নির্দেশ, রাজ্যে কোভিডের বিধিনিষেধ আরও কড়া করতে হবে। বস্তুত, রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা অবধি যে বিধিনিষেধ চালু ছিল তা শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিধি না মানলেই মোটা অঙ্কের টাকা ফাইন করতে হবে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাণঘাতী রূপ দেখেছে গোটা দেশ। এ রাজ্যেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। রাজ্যে এখন কোভিড গ্রাফ নিম্নমুখী হলেও বিধিনিষেধের রাশ আলগা করতে চায় না রাজ্য সরকার। আর যেখানে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে নিয়মের বাঁধন আরও কড়া করার কথাই ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।
এদিন সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিব বলেছেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ ঠেকাতে কতটা সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা যায় তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। ভিড়, জমায়েত, মেলামেশায় লাগাম টানতে হবে। রাজ্যের তরফে কোভিডের যে গাইডলাইন বলে দেওয়া হয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। এর অন্যথা দেখলেই ফাইন করা হবে। প্রয়োজনে নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে আরও কড়া ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
গতকালই নবান্নে বৈঠকের পরে জানানো হয়েছিল, মাস্ক পরা ও সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে মাস্ক ছাড়া বা সঠিকভাবে মাস্ক না পরে ঘুরতে দেখলে মোটা অঙ্কের টাকা ফাইন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। যে কোনও রকম ভিড়, জমায়েত নিয়ন্ত্রণের জন্য নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোভিডে মৃত্যু হলে কী কারণে হয়েছে তা বিশ্লেষণ করতে হবে। মৃত্যুহার কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
বাজার কমিটিগুলিতে কোভিড সচেতনতার কাজে লাগাতে হবে। আইসিডিএস ও এসএইচজি মহিলা কর্মীদের সচেতনতার প্রচারের কাজে নিয়োগ করতে হবে। কোভিড সচেতনতার জন্য চেম্বার অব কমার্সের সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভলান্টিয়ারদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে কোভিড গাইডলাইনের গুরুত্ব বোঝাতে হবে।