দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর পাঁচটা ধর্মঘটে যা হয়, এ বারও তার অন্যথা হলো না। কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশন সমূহে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে আগামী ৮-৯ জানুয়ারি। আর ওই ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক করল সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৭-১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনও ছুটি নিতে পারবেন না রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। ৪ জানুয়ারির আগে থেকে যাঁরা ছুটিতে আছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বা পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যুর কারণে ছুটি নিয়েছেন, তাঁদের জন্য এই নির্দেশ প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে সরকার। যে সমস্ত মহিলা কর্মচারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন তাঁদেরও ছাড় দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ধর্মঘটের দিন কাজে যোগ না দিলে শো কজ করা হবে, চাকরিজীবন থেকে ছেদ হবে একদিন ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পর থেকেই কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে ধর্মঘটে সরকারি কর্মচারীদের কাজে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেন। সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধে না হয়, সে কারণে পরিবহণ দফতরের উদ্যোগেও ব্যাপক সংখ্যায় সরকারি বাস চালানো হয়। কলকাতা-সহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে পুলিশ পিকেট। অনেকের মতে, মমতার দাওয়াইতে সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকেও বনধ সম্পর্কে সেই আতঙ্কের ধারণা চলে গিয়েছে।
[caption id="attachment_67741" align="aligncenter" width="960"]

বিজ্ঞপ্তি[/caption]
এই ধর্মঘট যেহেতু কেন্দ্রীর সরকারের বিরুদ্ধে, তাই মমতাকে নরম করতে অন্য কৌশল নিয়েছিলেন সিপিএম নেতা বিমান বসু, অনাদি সাহুরা। আবেদন জানিয়েছিলেন বিজেপি-র বিরুদ্ধে ধর্মঘট, যেন মমতা সমর্থন করেন। কিন্তু রাজ্যে কোনওভাবেই ‘চলছে না, চলবে না’ ফেরাতে চান না মমতা। তাই এই ধর্মঘটেও কড়া অবস্থানই নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
নবান্নের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল, সিপিএমের দাবি, ‘ওতে চাকরি যাবে না’
এমনিতেই বাম নেতারা ধর্মঘটের প্রচারে বলছিলেন, ৮-৯ এর দেশ জোড়া লড়াইয়ে মমতার অবস্থানই স্পষ্ট করে দেবে বিজেপি-র বিরুদ্ধে তিনি সত্যিই লড়তে চান, নাকি সবটাই তাঁর ভনিতা। এ দিন নবান্নের জারি করা সার্কুলার নিয়ে সিটু নেতা তথা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা তো আগেই বলেছিলাম সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। হলোও তাই। আসলে মমতা মুখে যে শ্রমিক-কৃষকদের পক্ষে থাকার কথা বলেন, কাজে তার সম্পূর্ণ উল্টো। আসলে সবটাই ওঁর জুমলা। বাংলায় যেটাকে বলে ঢপ কেত্তন।” যদিও শ্যামলবাবুর কথা শুনে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা যে মুখ, সেটা গোটা দেশ জানে। আসলে শ্যামলবাবুরা রাজ্যটাকে ৩৪ বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। দিদি তো আর সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না!”