দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনের সোমবার চতুর্থ দফায় আসানসোলে ভোটগ্রহণ। তার সপ্তাহখানেক আগে সোমবার সেখানে গিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক। সেখানে গিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ভোটের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তারপরে সাংবাদিকদের সামনে অজয় নায়েক জানিয়ে দিলেন, ভোটের দিন আসানসোলের সব বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ রাজ্য পুলিশকে রাখা হবে না কোনও বুথেই।
সোমবার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে বিশেষ পর্যবেক্ষক বলেন, “এই কেন্দ্রে ভোটের আগে থেকেই উত্তেজনা রয়েছে। মাঝেমধ্যেই গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন আসানসোলের প্রতিটা বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতেই এই কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ।”
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের এই ঘোষণার পরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্যস্তরে। তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার কথায়, “প্রথম দফার ভোট থেকেই বিভিন্ন বুথে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এমনকী বর্ডার এলাকা থেকে বিএসএফ এসেও প্রভাব খাটাচ্ছে। এই কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী বিজেপির বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু এ বার বাবুল জানেন, এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনের কাছে তিনি হারবেন। তাই বিজেপির প্রভাবেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হবে।”
অবশ্য এর সম্পূর্ণ উল্টো সুর আসানসোলের এক বিজেপি নেতার কথায়। তিনি বলেছেন, “প্রথম দু’দফার ভোটে ভালো কাজ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সে সব বুথে রাজ্য পুলিশ ছিল সেখানেই কারচুপি করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। আমরা বারবার কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে আবেদন করেছি। কমিশন জানিয়েছে তৃতীয় দফার ভোটে ৯২ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। আসানসোলে গত পাঁচ বছরে বাবুল সুপ্রিয় যা কাজ করেছেন, তাতে তিনি এমনই জিতবেন। আর তাই সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। বিশেষ পর্যবেক্ষককে নিশ্চয়ই সে কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি।”
ভোট ঘোষণার পর থেকেই মাঝে মাঝে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে আসানসোলের। কখনও বাবুল সুপ্রিয়র মিছিল চলাকালীন উত্তেজনা হয়েছে, তো কখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ পোস্টার ফেলা নিয়ে উত্তেজনা হয়েছে। যদিও বাবুল ও মুনমুন দুজনে একে অন্যের বিরুদ্ধে কোনও কুৎসা করেননি, কিন্তু কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই গণ্ডগোল হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আসানসোলের মতো গুরুত্বপূর্ন কেন্দ্রে কোনও রকমের ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। আর তাই ভোটের এক সপ্তাহ আগেই এই ঘোষণা করে দিলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-amit-shah-says-bjp-govt-gave-bharat-ratna-to-pranab-mukherjee-to-show-respect-for-bengal/