দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপৎকালীন সহায়তার জন্য বিশেষ কন্ট্রোলরুম খোলা হল কাটোয়া থানায়। ওষুধ বা অন্য কোনও অতি প্রয়োজনীয় জিনিস দরকার হলেও যানবাহনের অভাবে অনেকে তা আনতে যেতে পারছেন না। তাছাড়া বিপদ-আপদও থেমে নেই। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাই কন্ট্রোল রুম খুলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানা।
থানার ফোন বেজে উঠতে না উঠতেই কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার দৌড়ে এসে ফোন তুলে নিয়ে বলছেন, “নমস্কার, কাটোয়া থানা থেকে বলছি। বলুন আমরা আপনাকে কী সাহায্য করতে পারি?” বৃহস্পতিবার সকালে এক জন মহিলা ফোন করেছিলেন তাঁর মায়ের ওষুধের ব্যাপারে। তিনি ওষুধ কিনতে যেতে পারছেন না লকডাউন চলায়। তাই তিনি ওষুধটি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন কাটোয়া থানায় শুরু হওয়া ‘কোভিড-১৯ কন্ট্রোল রুম’-এ ফোন করে।
কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ওষুধের নাম জেনে খাতায় লিখে নিলেন। তারপরে যে এলাকা থেকে ওই মহিলা ফোন করেছিলেন সেই এলাকায় কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দিলেন। বললেন ওষুধটি পৌঁছে দিতে। এই ভাবে সারা দিনে অসংখ্য ফোন আসছে কাটোয়া থানার ‘কোভিড-১৯ কন্ট্রোল রুম’-এ। সিভিক ভলান্টিয়াররাও প্রতিটি ফোন ধরছেন ও সাধ্যমতো সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে কাটোয়া থানা এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনের জন্য কাটোয়া থানার পক্ষ থেকে 'কোভিড-১৯ কন্ট্রোল রুম' খোলা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বল হল: ৯৫৬৪৮০০৫৭৫ এবং ৯৬৪১৫১৮১২৭। এ ছাড়াও কাটোয়া থানার ল্যান্ড লাইন নম্বর ০৩৪৩২২৫৫০২৩। এই নম্বরগুলি বিশেষ ভাবে চালু করা হয়েছে প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী প্রমুখের জন্য যাঁরা টোটো ও রিকশা বন্ধ থাকায় ভীষণ অসুবিধায় পড়েছেন।
এই নম্বরগুলির কোনও একটায় ফোন করে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কথা জানালে কাটোয়া থানা থেকে সেই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন চাল, ডাল, সবজি, ওষুধ প্রভৃতি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবে শুধুমাত্র জিনিসটির প্রকৃত দামের বিনিময়ে।
কাটোয়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বা এসডিপিও ধ্রুব দাস জানান যে লকডাউন চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে অযথা বাইরে বেরিয়ে করোনা সংক্রমণের শিকার না হন তার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। দেশে ক্রমাগত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে যেন একান্ত দরকার ছাড়া বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ছাড়া তাঁরা বাজারে না যান। কোনও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথাও বলা হচ্ছে। অনেকে সচেতন হলেও বেশির ভাগ মানুষ বাইরে বেরিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার বাহানায় বাইরে বেরিয়ে লকডাউনের নিয়ম ভাঙছেন।