
শেষ আপডেট: 18 August 2019 14:08
পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া শোভনের চিঠি থেকেই জানা যাচ্ছে, তিনি বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরই নাকি দুম করে শনিবার, ১৭ অগস্ট তাঁর নিরাপত্তা সরিয়ে নেয় নবান্ন। ইমেলে শোভন লিখেছেন, "গত বছর ২২ নভেম্বর আমি মন্ত্রিসভা এবং মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিই। তারপরই আমার নিরাপত্তা জেড ক্যাটেগরি থেকে ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু আমি বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর হঠাৎ দেখলাম ১৭ অগস্ট আমার নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।" শোভনের আশঙ্কা, সমাজ বিরোধীরা হামলা করতে পারে। তাঁর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি বিজেপি-তে যোগ দিলেও, প্রশাসনের চোখে তো সবাই সমান।"
বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ব্যাপারে যে বৈষম্য রয়েছে সেই অভিযোগ নতুন নয়। বিরোধী দলের নেতা-বিধায়কদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি অনেক দিন ধরেই ঢিলেঢালা। গত সরস্বতী পুজোর দিন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খুন হওয়ার পর তবু কিছুটা টনক নড়ে প্রশাসনের। তখন বিরোধী দলের বিধায়কদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও আলোচনা শুরু করেছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের অনেক নেতাই ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করেন, অতীতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জমানায় কিন্তু এমন ছিল না। নন্দীগ্রামের ঘটনার পর বুদ্ধদেববাবু উদ্যোগী হয়ে অনেক তৃণমূল নেতার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিলেন। আবার মঙ্গলকোটে যখন সিপিএমের কর্মীদের হাতে মানস ভুইঞাঁ আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখন দেখা গিয়েছিল নিরাপত্তার জন্য তিনি কিন্তু প্রথম ফোন বুদ্ধদেববাবুকেই করেছিলেন।
কিন্তু বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, বাংলায় পরিবর্তনের পর সেই সংস্কৃতিরও বদল হয়েছে। বাংলায় বিরোধী দল করা মানে কার্যত তাঁর ভাত কাপড় বন্ধ। কোনও বিরোধী বিধায়ক তাঁর এলাকার উন্নয়নের জন্য ঠিক মতো বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচ করতে পারেন না। জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁদের ডাকা হয় না। ইত্যাদি শতেক কিসিমের ব্যবহার রয়েছে। এর আগে মুকুল রায় বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করে নিয়েছিল নবান্ন। অথচ প্রাক্তন রেলমন্ত্রী হিসাবে জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল মুকুলবাবুর। ইদানীং অবশ্য লোকসভা ভোটে বিজেপি ১৮টি আসনে জেতার পর, এখন বিরোধী দলের বিধায়কদেরও সরকারি বৈঠকে ডাকা শুরু হয়েছে।
ঘটনা হল, রাজ্য সরকার নিরাপত্তা তুলে নিলেও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখন কেন্দ্রের সরকার করেছে। তাঁকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তা নিশ্চিত হওয়ার পরই রবিবার কলকাতায় ফিরেছেন তিনি। অনেকের মতে তার পরেও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখে শোভন আদতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ‘প্রতিহিংসার রাজনীতিটাই’ সকলের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন। বোঝাতে চেয়েছেন, দেখো তৃণমূল কেমন প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক দল। ওই দল করলেই সব মাফ। অন্য দল করলেই জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা বলয় থাকতেও ঘোর বিপদে পড়তে হয়েছিল শোভনকে। কয়েকমাস আগে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রায়চকে গিয়েছিলেন শোভন। যে রিসোর্টে উঠেছিলেন, তার বাইরে লোকলস্কর জড়ো করে হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন বৈশাখী। জল, বিদ্যুৎহীন হয়ে থাকতে হয়েছিল বেশ কয়েক ঘণ্টা।
তখন খাতায় কলমে তৃণমূলেই ছিলেন শোভন। এখন, বিজেপি-তে পাকাপাকি যোগ দিয়েছেন। কতটা মসৃণ ভাবে তিনি রাজনীতি করতে পারেন এ বার সেটাই দেখার।