দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: বুনিয়াদপুরে সেফ হাউসের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হল এক করোনা রোগীর। মৃতের নাম অজিত মাহাত, বয়স ৪৩ বছর। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী ব্লকের বদলপুরে। শনিবার সকালে বুনিয়াদপুরের বংশীহারী আইটিআই কলেজের সেফ হাউসের দোতলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন তিনি।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বংশীহারী ব্লকের বদলপুর এলাকার ভিওর গ্রামের ঝামা মাহাতর ছেলে অজিতের গত ৩ অগস্ট সোয়াব পরীক্ষা করা হয়। ৫ অগস্ট রাতে তাঁর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর পরের দিন সকালে তাঁকে বংশীহারী আইটিআই কলেজের সেফ হাউসে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। রাত বারোটা নাগাদ সেফ হাউসের এক দিক থেকে অন্য দিকে তিনি ছুটে বেড়াতে শুরু করেন বলে জানিয়েছেন ওখানে ভর্তি থাকা অন্যরা। তিনি বিভিন্ন ঘরের দরজায় ধাক্কা মারতে শুরু করেন।
শনিবার ভোরের দিকে করোনা রোগী মালতি মুর্মু শৌচালয়ে যাওয়ার সময় দেখেন তখনও অজিত ছোটাছুটি করছেন। তাঁর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। তিনি ভয়ে কাঁপছেন। তাঁর কথায়, এরপরেই হঠাৎ অজিত মাহাত চিৎকার করে ছাদের দিকে দৌড়ে চলে যান এবং পরে তিনি ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন।
মৃত ব্যক্তির ভাই সুশান্ত মাহাত জানান, এদিন সকালে তাঁর দাদার ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা জানতে পারেন তিনি। খবর পেয়ে আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তখন সকাল ছটা মতো বাজে। তাঁরা সেখানে গিয়ে অজিতের সঙ্গে কথাও বলেন। অজিতকে রসিদপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার আগে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গঙ্গারামপুর মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মনোতোষ মণ্ডল বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি পুলিশকে জানাই এবং বিএমওএইচকেও জানাই। তাঁরা অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আমিও সেখানে যাই। গিয়ে দেখি চিকিৎসক প্লাবন মণ্ডল তাঁকে পরীক্ষা করছেন। তিনি জানান যে রোগী মারা গেছেন। আমরা সেখান থেকে দেহ উদ্ধার করে থানায় আনি এবং তারপরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ বালুরঘাটে পাঠানো হয়।” তিনি জানিয়েছেন যে মৃতের ভাইয়ের বয়ান অনুযায়ী অজিত মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। মৃতের দুই সন্তান রয়েছে। এক জনের বয়স ১৫ বছর এবং অন্যজনের ১০ বছর। কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরে তিনি মানসিক ভাবে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। মনোতোষ মণ্ডল বলেন, অজিতের কাউন্সেলিংও করা হচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা যে তিনি মারা গেলেন।